Home / লাইফ স্টাইল / আপনি কি সন্দেহ করেন আপনার ভালোবাসার মানুষকে?
Indoor image of a small office scene where an overburdened young woman holding head in hand out of headache. She is looking down and obscured young man in the background holding and reading on mobile phone. Two people, waist up, horizontal composition with selective focus and copy space.

আপনি কি সন্দেহ করেন আপনার ভালোবাসার মানুষকে?

তবে শুরুর আগেই এটা জানা দরকার –
১. আপনি কিন্তু গোয়েন্দাগিরি করছেন। এর ফল ভালো নাও হতে পারে, মন্দও হতে পারে। এর জন্য আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
২. আপনার সবকিছু আগে বুঝে নেওয়া দরকার – আপনি কী করবেন জেনে? যতক্ষণ সন্দেহ, ততক্ষণ একরকম। কিন্তু সন্দেহ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়ে যায়, তখন আপনি কী করবেন? সে সময়কার ফলের জন্য আপনি প্রস্তুত তো?

লক্ষণ :
১.ফোন হাতছাড়া নয়
পরকীয়া প্রমাণে রাজসাক্ষীর ভূমিকা পালন করে ফোন। ফোনটি নিয়ে স্বামী / স্ত্রী কী করেন লক্ষ্য করুন। তিনি কি ২৪ ঘণ্টাই ফোনটিকে নিজের কাছে রেখে দেন? ফোন লক করে রাখেন? দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, স্পাউস চিটিং ইনস্টিঙ্কট বোঝার সবচেয়ে সহজতম উপায় ফোন। যেসব পুরুষ/ নারী সঙ্গীর প্রতি সৎ, তিনি কোনওদিনই নিজের ফোন নিয়ে লুকোচুরি খেলেন না। সঙ্গীর সামনেই খুলে রাখেন ফোনের যাবতীয় তথ্য। কে কল করছে, কার মেসেজ আসছে, কারা চ্যাট করছে, সবই অপরজনের জানা। পরকীয়া করেন যাঁরা, তাঁরাই স্বামী / স্ত্রীর কাছে ফোনের অ্যাকসেস বন্ধ করে দেন। কেননা, সেটাই প্রেমিক / প্রেমিকার সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখার একমাত্র মাধ্যম।

২. একান্ত সময় কাটাতে বড় ভয়
একান্তে স্বামী / স্ত্রীকে ভয় পাওয়া আরেকটি লক্ষণ। পরিবারের বাকিদের সঙ্গে একই ঘরে স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটাতে কোনও সমস্যা হয় না পরকীয়ায় আসক্ত পুরুষের। কেননা, সেখানে অনেক লোকের মাঝে স্ত্রীও ব্যস্ত। ফলত, সেখানে স্ত্রীর কড়া নজরের হাত থেকে অনেকটাই রেহাই। কিন্তু একান্ত হলেই মুশকিল। ওই যে আগেই বলেছি, ভালোবাসার চোখকে ফাঁকি দেওয়া কঠিন। এমন অবস্থায় লক্ষ্য করুন স্বামীর চালচলনে কোনও পরিবর্তন এসেছে কিনা। তিনি কি আপনার চোখে চোখ রেখে কথা বলেন?

৩.ঘনিষ্ঠতার অভাব
সম্পর্কে চিড় ধরলে সবার আগে কাছাকাছি আসা বন্ধ হয়। অন্য নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হলে অনেকসময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন বন্ধ করে দিতে পারে স্বামী / স্ত্রী। অজুহাত, “শরীরটা ভালো নেই। খুব টায়ার্ড।” অনেকে আবার নিজে থেকে কাছে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে না। স্বামী স্ত্রী যদি নিজে থেকে এগিয়ে আসে তো আলাদা কথা। সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অভিনয় করা সম্ভব নয়। পার্থক্যটা বোঝা যায় কোনটা জোর করে কাছে আসা, কোনটা সত্যি সত্যি ভালোবাসা। আবার এমন মানুষও আছে (পুরনো খেলোয়াড়), যারা স্বামী / স্ত্রীর সামনে ভাব দেখাবে যেন তাকে ছাড়া পৃথিবীটা অন্ধকার। পরকীয়া করা সত্ত্বেও স্বামী / স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসে তাঁদের বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা থাকে না। এরা দু’ নৌকায় পা দিয়ে দিব্যি চলতে পারে। হিন্ট, অতিরিক্ত মিষ্টি ব্যবহার। কোনও কথায় রাগ নয়, অনীহা নয়, বিরক্তি নয়। সকালে সঙ্গীর সঙ্গে বচসা হলে, রাতে তার রেষ থাকে না। ভাবখানা এমন, যেন সকালে কিছুই হয়নি। এর মানে, প্রেমিক / প্রেমিকার সংস্পর্শে এসে তিনি নিজেকে ঠান্ডা করেছেন। অতএব মুড ভালো। এই ধরনের আচরণ কিন্তু যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী, যে আপনার স্বামী / স্ত্রীর জীবনে দ্বিতীয় কোনও কাছের মানুষ আছে।

৪. অতিরিক্ত অজুহাত
কথায় আছে, এক মিথ্যে ঢাকতে হাজারটা মিথ্যে বলতে হয়। স্বামী / স্ত্রী যদি কোনও বিষয়ে অতিরিক্ত অজুহাত দিতে শুরু করেন, জানবেন তিনি মিথ্যে বলছেন। পিছনের সত্যিটাকে লুকনোর চেষ্টা করছেন। বোঝানোর চেষ্টা করছেন সত্যতা। এমন পরিস্থিতিতে কিন্তু আপনাকে শান্ত থাকতে হবে। স্বামী / স্ত্রীর কথাগুলো ভালো করে লক্ষ্য করুন। পালটা প্রশ্ন করুন শান্ত স্বরে। ক্রসচেক করুন। সাধারণত মিথ্যে বললে সেই মিথ্যে মানুষের মনে থাকে না। একসঙ্গে অনেকগুলি মিথ্যে পরবর্তীসময় সেই কথা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে খুব ভালো করে মনিটর করলে কথার মধ্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। তার মানেই something wrong। অকারণে কেউ মিথ্যে বলে না। মিথ্যে যখন বলছে – তখন নিশ্চয় কিছু গোপন করার চেষ্টা করছে। এটাই সবার আগে মাথায় আসে।

তবে সবশেষে একটি কথা, স্বামী / স্ত্রীকে অকারণ সন্দেহ করবেন না। অনেকের স্বভাব অযথা সন্দেহ করা। এতে লাভের লাভ কিছু হয় না। সমস্যা বাড়ে। সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। মনে রাখবেন, পৃথিবীর সব স্বামী / স্ত্রী অসৎ নন।… (চলবে)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *