Home / লাইফ স্টাইল / মেয়েরা কিভাবে ঠোঁটের যত্ন নিবেন?

মেয়েরা কিভাবে ঠোঁটের যত্ন নিবেন?

ঠোঁট মুখের সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি অংশ। আপনার ঠোট যদি মুখের ত্বকের সাথে সামঞ্জস্য না থাকে তাহলে একেবারেই বেমানান মনে হবে। ঠোঁটের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বক অপেক্ষা অনেক গুণ বেশি নাজুক ও কোমল হয়ে থাকে। তাই ঠোঁটকে সুন্দর রাখতে চাই এর জন্য বাড়তি কিছু যত্ন। সুস্থ, সুন্দর ও প্রাকৃতিক ভাবে ঠোঁটে গোলাপি রঙ পেতে নিয়মিত কিছু টিপস মেনে চলতে পারেন। অনেক কারনেই ঠোঁটের সৌন্দর্যটা হারাতে পারেন। যেমন- ব্যস্ত কর্মজীবন, স্ট্রেস, আবহাওয়ার পরিবর্তন, বাতাসের আর্দ্রতা, শারীরিক অসুস্থতা, তামাক সেবন, ধূমপান করা, কেমোথেরাপি, অতিরিক্ত ফ্লুরাইড এর ব্যবহার, নিম্ন মানের কসমেটিকস এর ব্যবহার, রাতে ঘুমানোর আগে লিপস্টিক না তোলা, সরাসরি সূর্যের আলো পড়লে, স্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীনতা। আপনাদের সুবিধার জন্য রইলো প্রয়োজনীয় কিছু টিপস-

  • প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আপনি যখন দাঁত ব্রাশ করেন, তখন টুথপেস্টের কিছুটা আপনার ঠোঁটের উপর লাগিয়ে প্রলেপ দিন। কিছুক্ষণ পর ব্রাশ করা শেষ হলে হাতের ব্রাশ টি দিয়ে ঠোঁট ব্রাশ করুন। এজন্য ব্রাশ টিকে অবশ্যই নরম হতে হবে এবং অনেক হালকা ভাবে ব্রাশ করতে হবে। এর ফলে ঠোঁটের এবং ঠোঁটের চারপাশের মৃত কোষ গুলো উঠে আসবে, সতেজ হবে ঠোঁট এবং এর চারপাশ।
  • প্রতিদিন ঘুমাতে যাবার আগে অন্তত ৫ মিনিট ঠোঁট ম্যাসাজ করতে হবে। ম্যাসাজ এর জন্য কয়েক ফোঁটা লেবুর রস আমন্ড বাদাম তেলের সাথে মিশিয়ে নিন। এই ট্রিটমেন্টে আপনার ঠোঁটের আর্দ্রতা ফিরে আসবে। নিয়মিত ব্যবহারে খুব সহজেই কালো দাগ কমে আসবে।
  • প্রতিদিন বাইরে থেকে ফিরে এসে আপনার ঠোঁট থেকে লিপস্টিক বা লিপগ্লস তুলে ফেলুন। তুলে ফেলতে সামান্য একটু তুলায় অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল লাগিয়ে হালকা করে মুছে ফেলুন। রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ঠোঁটের এই মেক-আপ তুলে ফেলতে হবে। আপনার ঠোঁট কালো হওয়ার জন্য এটা বিশেষভাবে দায়ী।
  • গোলাপের পাপড়ি পিষে এর মধ্যে গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। তা প্রতিদিন ঠোঁটে লাগান। আপনার ঠোঁটের চমক এমনিতেই বেড়ে যাবে। ঠোঁট গোলাপি করতে হলে গোলাপের পাপড়ির রসের মধ্যে তুলসী পাতার রস মিশিয়েও লাগাতে পারেন।

  • বাইরে বেরোলে সঙ্গে লিপবাম বা লিপবাটার রাখতে পারেন। শীতে বাইরে গেলে ঠোঁট বেশি ফাটে এবং ঠোঁটে ধুলাও লেগে যায়। তাই তখন মাঝেমধ্যে ঠোঁট একটু ধুয়ে নিয়ে লিপবাম বা লিপবাটার লাগিয়ে নিন। ঠোঁট ধোয়ার সুযোগ না পেলে প্রথমে একটু লিপবাম লাগিয়ে সেটি মুছে ফেলুন। এতে আপনার ঠোঁট পরিষ্কার হবে। তারপর আবার লিপবাম লাগান।
  • শীতে অনেকের ঠোঁট কালো হয়ে যায় এবং খুব বেশি ফেটে যায়। তারা ঘরোয়া পদ্ধতিতেই নিতে পারেন বাড়তি যত্ন। গোলাপের পাপড়ির সঙ্গে মধু বা মাখন মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন সারা রাত। বিট-রুটের রসের সঙ্গেও গোলাপের পাপড়ি ও মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখতে পারেন সারা রাত।
  • লিপস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজারযুক্ত লিপস্টিক বেছে নিন।
  • রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নারিকেলের তেলের সঙ্গে বাদাম তেল মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। সপ্তাহে দু’দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করুন। কালো দাগ দূর হবে।
  • একটা লেবুর অর্ধেক কেটে তার উপর দুই ফোঁটা মধু দিয়ে বৃত্তাকারে ঠোঁটে ম্যাসাজ করতে হবে। এরপর বরফ জলে ঠোঁট ধুয়ে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যায়। লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগাতে পারেন।
  • পানিশূন্যতা আপনার ঠোঁটের আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন পানি পান করুন, কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস।
  • কমলার খোসা নিয়ে ঠোঁটে লাগান অথবা কমলার খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিয়ে তাতে খানিকটা গোলাপজল মিশিয়ে ঠোঁটে লাগাতে পারেন।
  • অল্প পরিমাণ চিনি এবং কোল্ড ক্রিম একসাথে মিক্স করে ঠোঁটের স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করুন। কোল্ড ক্রিমের বদলে অলিভ অয়েল-ও ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে ঠোঁটের ন্যাচারাল কালার ফিরে আসবে।
  • ৪ ফোঁটা নারিকেল তেল এবং ৬ ফোঁটা টমেটোর রস একসাথে মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাবার আগে লাগাতে হবে। সুন্দর ঠোঁটের জন্য এটি সপ্তাহে তিন বার লাগানো যায়।
  • ঠোঁটে লিপস্টিক সবসময় ভালো ব্র্যান্ডের ব্যবহার করা উচিত। নকল কিংবা নিম্নমানের লিপস্টিক ঠোঁটে লাগালে ঠোঁটের চামড়ার ক্ষতি হয়। ঠোঁট পরিষ্কার করতে হয় আলতোভাবে। খুব জোরে ঘষলে ঠোঁটের চামড়ার ক্ষতি হয়। এতেও ঠোঁটে কালো দাগ পড়তে পারে।
  • গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়ে তুলার সাহায্যে ঠোঁটে লাগাতে হবে। ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • পুদিনা পাতা বেটে রস আলাদা করে নিয়মিত ঠোঁটে লাগান। বরফের কিউব নিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করুন, পরে বাদাম তেল এবং অলিভ অয়েল মিক্স করে ম্যাসাজ করুন। ঠোঁটের ন্যাচারাল কালার ফিরে আসবে।
  • দুধের সর এর সাথে ডালিমের বিঁচির গুঁড়ো মিক্স করে ঠোঁটে লাগান। এতে ঠোঁটে গোলাপী আভা আসবে। এক্ষেত্রে সর না নিয়ে ঘি ব্যবহার করতে পারেন।

সুন্দর ঠোঁট আপনার চেহারাকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলে। প্রত্যেকেই নিজের ঠোঁটকে আরও আকর্ষণীয় এবং পোষাকের সাথে মানানসই করতে ব্যবহার করেন নানা প্রসাধনী। কিন্তু বর্তমান প্রতিকূল পরিবেশ এবং বিভিন্ন প্রসাধনীর রাসায়নিক প্রভাবে এই শুভ্র গোলাপী ঠোঁট তার সৌন্দর্য হারিয়ে কালচে হয়ে যায়। কিন্তু প্রকৃতিক উপায়ে এবং কিছু নিয়ম মেনে চলে ঠোঁটকে করা যায় আরও সুন্দর এবং আকর্ষণীয়। নিয়মগুলো মেনে চলুন তাহলেই দেখবেন আপনার ঠোঁট গোলাপের পাপড়ির মতই নরম, কোমল, গোলাপী এবং আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। তাহলে এবার হেসে উঠুন প্রাণখুলে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *