Home / অর্থনীতি / মধু চাষে অনেক লাভ, উপসহ কারী কৃষি কর্মকর্তা—- মোঃএকরাম হোসেন।

মধু চাষে অনেক লাভ, উপসহ কারী কৃষি কর্মকর্তা—- মোঃএকরাম হোসেন।

আল্লাহর দান মৌ খামার মোবাইল :০১৭৪০৪১৭২৮৭

মোঃজাকির লস্কর :-মুন্সিগঞ্জে শ্রীনগরে সরিষা ক্ষেত থেকে বিনা খরচে মধু সংগ্রহ লাভজনক ব্যবসা হয়ে দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকের একদিকে মধু বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অন্যদিকে ক্ষেতে মধু চাষ করায় সরিষার ফলনও পাবে বেশি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় চলতি বছরে উপজেলায় সরিষা ক্ষেতে মধু চাষের ৭ টি খামার গড়ে তোলা হয়েছে। কোনো দুযোর্গ না এলে সরিষায় বাম্পার ফলনের পাশাপাশি কয়েক হাজার টন মধু সংগ্রহ করতে পারবে কৃষক। সরিষা ক্ষেতে মধু চাষে উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
শ্রীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃএকরাম হোসেন জানান, সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি থাকলে তা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ফলন বাড়ে। এতে সরিষার ফুলে মৌমাছি যে পরাগায়ন ঘটায় তাতে সরিষার দানা ভালো হয় এবং ফলনও বাড়ে। যে সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি নেই সেখানে সরিষার ফলন কম হয়। সরিষা ক্ষেতে মধুর খামার গড়ে তোলার জন্য আমরা সব সময় কৃষককে উৎসাহ দেই। এর ফলে কৃষক দুদিক থেকে লাভবান হয়। একদিকে সরিষা থেকে যে মধু পাওয়া যাবে তা বিক্রি করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান অন্যদিকে সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি থাকায় সরিষার ফলন বেশি। এ বছর উপজেলায় ০৭ টি মধুর খামার গড়ে তুলেছে কৃষক। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, সরিষা ক্ষেতে মধুর খামার গড়ে তোলার প্রচলন ছিল না। গত বছর মো আলী নামের এক কৃষক সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ করে লাভবান হয়েছে। গত ওই খামার দেখে অনেকেই মধু চাষে আগ্রহ দেখায়। এর ফলে এ বছর ০৭ টি খামার শুরু করা হয়েছে। সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দিতে হলে সরকারি ভাবে কৃষকদের মাঝে সতেনতা সৃষ্টি, পুঁজির যোগান, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং মধু বিপননের ব্যবস্থা করতে হবে। মূলত পৃষ্ঠপোষকের অভাবে সরিষা ক্ষেতে মধুর খামার করতে পারছে না কৃষক। তাছাড়া ওই খামার যে ব্যাপক লাভজনক সেটাও জানে না অনেক স্থানের কৃষক। মুন্সিগঞ্জ জেলার ৬ উপজেলায় যে পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ হয়ে থাকে তার অর্ধেক চাষ হয় শ্রীনগরে। এ বছরও উপজেলার পূর্বাঞ্চল সীমান্ত এলাকা গুলোতে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। শ্রীনগর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে ওই তথ্য।
সরেজমিনে সরিষা ক্ষেতে মধুর খামারে দেখা গেছে, সরিষা ক্ষেতের পাশেই সারি বদ্ধভাবে বসানো হয়েছে মৌমাছির বাক্স। হাজার হাজার মৌমাছি হলুদ রঙের সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে জমা করছে। ৭/৮ দিন পর পর ওই সব বাক্স থেকে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতি বাক্সে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মৌমাছি আর একটি মাত্র রানী মৌমাছি থাকে। রানী মৌমাছি ডিম দেয়। মৌমাছির নাম ‘এফিস মিলি ফেরা’ জাতের মাছি। সারাদিন মাছি গুলো সরিষার ফুলে পরাগায়ন ঘটায় এবং মধু সংগ্রহ করে। এতে প্রায় ৩ কিলোমিটার দুরের সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ করে মাছি গুলো।মোঃ আলী নামের মধু চাষি জানান, আমার খামারে ২শ’ ৩০ মতো বাক্স রয়েছে। প্রতিবাক্সে ৯/১০টি করে মোমের ফ্রেম রয়েছে। মোমের ফ্রেমে মাছি মধু জমা করে আর রানী মাছি ডিম দেয়। যখন ফ্রেমগুলো মধুতে ভরে যায় তখন বাক্স থেকে ফ্রেম গুলো খুলে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাছি মুক্ত করা হয় এবং ড্রামের মধ্যে ঘুরাইয়া (ঘুর্ণায়মান ড্রাম) মধু পৃথক করে নেওয়া হয়। এতে প্রতি বাক্স থেকে ৭/৮ লিটার মধু বের করা যায়। খামার করতে খরচের মধ্যে একটা বাক্স ৬০০ টাকা, একটা মোমের ফ্রেম ৫০০ টাকা। বাক্সভর্তি মৌমাছি নারায়নগঞ্জ থেকে কিনে আনা হয়েছে। সরিষা ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা এসব মধু ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা লিটারে বিক্রি করা যায়। এ বছর তিনি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। আমার মতো আরো ৭জন মধু চাষি খামার করেছেন শ্রীনগরে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরাম হোসেন বলেন, ‘মধু মধুই। ফুলের ওপর নির্ভর করে মধুর ভিন্নতা। সরিষার ফুল থেকে যে মধু পাওয়া তার দাম একটু কম। সুন্দরবনের মধুর দাম একটু বেশি। শ্রীনগরে প্রতিবছর যে পরিমাণ সরিষার আবাদ হয় তাতে অর্থনৈতিক দিক থেকে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য কৃষককে সরকারি বা বেসরকারি ভাবে সহযোগিতা করতে হবে। মধু চাষে কৃষকের প্রধান সমস্যা পুঁজির অভাব আর বাজারজাত করনের।’
শ্রীনগরের মজিদপুর দয়হাটা মৌমাছির ভেঁ ভোঁ।
ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগরের কেসি চৌধুরী রাস্তা ধরে পূর্ব দিকে আগাতেই রাস্তার দু’পাশের জমিগুলো এখন হলুদ রংয়ে ছেয়ে গেছে। যতদুর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। জেনো মন কেড়ে নেয় হলুদের এই সমারোহ। রাস্তা ধরে প্রায় ১কি.মি. আগালেই বীরতারা ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রাম। এ গ্রামের জমিগুলো এখন হলুদ বর্নে ছেয়ে গেছে। গ্রামের সরিষা জমিগুলো এখন হলুদ ফুলে প্রকৃতিকে বদলে দিয়েছে। যুগ যুগ ধরে প্রকৃতি বদলের সাথে সাথে বদলেছে দেশের জীব বৈচিত্র। আর তাই বহু বছর যে জিনিসটি চোখে পড়ে না, এখানে গেলে তাই দেখা যায়। হলুদ সরিষা জমিতে তাকালেই চোখে পড়বে অসংখ্য মৌমাছি ভেঁ ভোঁ করে উড়ছে। এক সরিষা গাছ থেকে অন্য সরিষা গাছের হলুদ ফুলে উরে উরে মধু সংগ্রহে ব্যাস্ত মৌমাছি।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *