Home / অর্থনীতি / শ্রীনগর-সিরাজদিখানের তাঁত শিল্প- ১৫০ বছরের এ শিল্প মাত্র ৭/৮ বছরেই বিলুপ্ত

শ্রীনগর-সিরাজদিখানের তাঁত শিল্প- ১৫০ বছরের এ শিল্প মাত্র ৭/৮ বছরেই বিলুপ্ত

শ্রীনগর নিউজ ডেস্ক : আমাদের এলাকার দোগাচি,কাজিরপাগলা,ফুলকুচি, কয়কীর্তন,সেলামতি,উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিন রাড়িখাল, যশলদিয়া, কামারগাও,নাগেরহাট, কুকুটিয়া, সুতারপাড়া, জয়পাড়া, দেবীনগর, শিবরামপুর,পাউসার, বারৈখালী, কলাকোপা গ্রামগুলোতে হস্তচালিত তাঁত শিল্প বিদ্যমান ছিল। মুলত শাড়ি ও লুঙ্গীই বেশি উৎপাদিত হত। এগুলোর পাইকারি বিক্রির বাজার ছিল শিবরামপুর, দেবীনগরহাট ও গোয়ালিমান্দ্রাহাট। আমাদের বাড়ির দঃ পূর্ব দিকে প্রচুর তাঁতের কাজ চলত, ঠক ঠক আওয়াজে এলাকা মুখরিত থাকত। বর্ষাকালে এ আওয়াজ আরও বেশি শুনা যেত। উত্তর কোলাপাড়ার চৌকিদার বাড়ি ও সাউকান্দাতে বড় আকারের ফ্যাক্টরি ছিল, এদুটি ফ্যাক্টরিতে শুধুমাত্র লুঙ্গি তৈরি হত। চৌকিদার বাড়িতে বেশি পরিমানে সুতা ধোয়া ও রং এর কাজ হত, রং ও কেমিক্যাল গড়িয়ে পড়ে আশেপাশের পুকু্রের পানি রঙিন হয়ে যেত, পুকুরের মাছ মরে যেত। আগে তাঁতিদের রাত জেগে কাজ করার কারনে গ্রামে চোর ডাকাতের উৎপাত কম ছিল। হাতের এ সুক্ষ কাজ বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে খুব মনোযোগ সহকারে দেখতাম। খুব ভোরে কিছু লোককে দেখতাম কাপড়ের বান্ডিল মাথায় নিয়ে পশ্চিম দিকের হাটে চলে যেত, একই ভাবে বর্ষাকালে দল বেঁধে নৌকায় করে যেত। বিক্রমপুরের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি একবার মার খেয়েছে দেশ স্বাধীনের পর সুতা কেলেঙ্কারির জন্য। মিল জাতীয়করণের কারনে সুতার লাইসেন্স চলে গেল সিণ্ডিকেটের হাতে ফলে বেশি দামে সুতা কিনে তাঁতিদের লাভ টিকত না,এরপর দেশে্র বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ চালিত পাওয়ার লুম চলে আসায় তাঁতিদের উৎপাদিত পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকতে ব্যর্থ হয়। লাভজনক না হওয়ায় এ পেশার সাথে যুক্ত পরিশ্রমী লোকজন ভিন্ন পেশা বেছে নিয়ে এখন তাঁরা সমাজে বিত্তবান শ্রেণীর অংশ হয়ে গেছে। জয়পাড়ার আশেপাশে দেবীনগরহাট ও শিবরামপুর হাটে যে লুঙ্গি/ শাড়ি বিক্রি হয় তা সিরাজগঞ্জও নরসিংদী হতে থান কিনে এনে বাকীটা প্রসেস করে স্থানীয় হিসাবে সিল মারা হয় বলে জানা গেছে। এছাড়া কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরের লুঙ্গির নাম ব্যবহার করে একই ভাবে সিল মেরে ওসব হাটে বিক্রি করা হয়।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *