(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({ google_ad_client: "ca-pub-2968137545784960", enable_page_level_ads: true });
Home / জাতীয় / পুলিশ প্রধানের বক্তব্য অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত: ড. আসাদুজ্জামান রিপন

পুলিশ প্রধানের বক্তব্য অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত: ড. আসাদুজ্জামান রিপন

001_148017

৬ জুলাই, শ্রীনগর নিউজঃ বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দায়িত্বশীল বক্তব্য দিতে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) একে এম শহীদুল হকের পরামর্শকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত’ হিসেবে অভিহিত করেছে বিএনপি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানকে এই ধরনের ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ দেওয়া থেকে বিরত থেকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে দলটি। সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। শনিবার সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এক ইফতার মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে বলেন ‘পুলিশই আমাদের আন্দোলনের সময় পেট্রোলবোমা মেরেছে। শুধু বোমা নয়, বাসে আগুনও দিয়েছে তারা।’ এর প্রতিবাদ করে রবিবার এক অনুষ্ঠানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। বিএনপি চেয়ারপারসনকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ারও পরামর্শ দেন পুলিশের আইজি। এর প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘এ কথা বলে তিনি কি ইঙ্গিত করেছেন জানি না। তবে আমাদের দলের অবস্থান হচ্ছে, আন্দোলনের সময়ে সৃষ্ট নাশকতার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি বিএনপিপ্রধান অনেক আগেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘কল্পিত মামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন। পুলিশপ্রধানের কাছ থেকে যখন এই ধরনের বক্তব্য আসে, তখন স্বাভাবিকভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। বাহিনীর অন্য সদস্যরা প্রধানের মনোভাবে প্রভাবিত হয়ে চাকরি বাঁচানোর স্বার্থে তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে।’ বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানের দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত নয়। এতে বাহিনীর অধস্তনরা ওই দলের প্রতি আরও বিরূপ মনোভাবাপন্ন হয়। তখন গণতান্ত্রিক স্পেস তো দূরের কথা, লাইফ স্পেসও সংকটাপন্ন হয়ে যায়। আমরা আতঙ্কিত হয়ে যাই।’ পুলিশপ্রধান হিসেবে একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের মতো বক্তব্য দিতে শহীদুল হকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলের প্রধানকে লক্ষ্য করে পুলিশপ্রধানের এই ধরনের বক্তব্য শোভন নয়। বিএনপিপ্রধান নাশকতার জন্য সব পুলিশকে দায়ী করেননি। তিনি বলেছেন, কিছু কিছু সদস্য এই কাজ করেছে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে নিশ্চয়ই এর পক্ষে তার পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ আছে। তার বক্তব্যের বিপরীতে কোনো বক্তব্য থাকলে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যিনি আছেন বা প্রধানমন্ত্রী বলতে পারতেন। তাহলে বুঝতাম বিষয়টি রাজনৈতিক বাদানুবাদ। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানের দেওয়া বক্তব্য দৃষ্টিকটু। তিনি বলেন, ‘পুলিশবাহিনী কী শুধু আওয়ামী লীগের? প্রত্যাশা করি, বাহিনীর ভাবমূর্তির স্বার্থে সংবেদনশীল এবং সংযম প্রদর্শন করবেন। রাজনীতিবিদদের মতো কথা বলা তাদের দায়িত্ব নয়।’ শিক্ষা খাতে ‘হ য ব র ল’ অবস্থা চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিনা ভোটের মন্ত্রী হওয়ার কারণে তারা সচিবদের প্রতি তাদের আইনানুগ কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারছে না। সে কারণে মন্ত্রীর সামনে সচিব ছক্কা মারার কথা বলছে। এই ধরনের বক্তব্য সরকারি চাকরির বিধি-বিধানের মধ্যে পড়ে না। এর মাধ্যমে বোঝা যায় প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা কোন জায়গায় উপনীত হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, শিক্ষার্থীদের ভাগ্য নিয়ে খেলতে কোন সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কিনা। তাকে এ অধিকার কে দিয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কথা স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদকে ধন্যবাদ জানান বিএনপির মুখপাত্র।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *