Home / মুন্সিগঞ্জের খবর / গজারিয়া উপজেলা / মুন্সিগঞ্জে কলেজ ছাত্রী সোনিয়া হত্যাকান্ড! স্থানীয় মিডিয়া কর্মী, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের ভুমিকা!

মুন্সিগঞ্জে কলেজ ছাত্রী সোনিয়া হত্যাকান্ড! স্থানীয় মিডিয়া কর্মী, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের ভুমিকা!

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কলেজ ছাত্রী সোনিয়া হত্যার প্রতিবাধে সোশাল মিডিয়ায় চলছে প্রতিবাধের ঝড়। গজারিয়ার সচেতন ব্যক্তিরা নিজের আইডি হতে সোনিয়া হত্যার বিচার চেয়ে একের পর ষ্ট্যাটাস আপলোড দিয়েই যাচেছ। খাদিজা, তনু হত্যার মতো দেশব্যাপী প্রতিবাধের ঝড় তুলার চেষ্টা করেছে গজারিয়ার বেশ কিছু যুবক। আশা করি এসকল প্রতিবাধী যুবকেরা তাদের শেষ গন্তব্য স্থলে পৌছতে পারবে। গ্রেফতার হবে সোনিয়ার হত্যাকারী, উপযুক্ত বিচার পাবে সোনিয়ার পরিবার।

মেধাবী কলেজ ছাত্রী সোনিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজে বার্ন ইউনিটের চার দিন মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে মারা যায়। চলতি মাসের ১৬ এপ্রিল সকাল সাতটার দিকে টিউবওয়েলে হাত মুখ ধোয়ার সময় দৃবৃত্তেরা সোনিয়ার গায়ে ক্যামিকেল ( দাহ পদার্থ) ঢেলে দেয়। মুহুর্তেই তার সারা শরীরে আগুন ধরে যায়। গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেদিনেই পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আগুনে পোড়া সোনিয়ার সর্বশেষ ঠিকানা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে। বালুয়াকান্দি ডা: আব্দুল গাফ্ফার স্কুল এন্ড কলেজ হতে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল সোনিয়া। খালাত ভাই হারুন অর রশিদের সাথে পারিবারিক ভাবে তার বিয়ের কথাও চুড়ান্ত হয়েছে। পরীক্ষার পরে হওয়ার কথা ছিল সোনিয়া হারুনের বিয়ে। বাজার কথা ছিল বিয়ের সানাই।
সিলেটের খাদিজাকে কুপের রক্তক্ষরন, কুমিল্লার তনু হত্যার প্রতিবাধে সারাদেশ ব্যাপী প্রতিবাধ, নিন্দার ঝড় উঠেছিল। নাড়া দিয়েছে সরকারের উচচমহলে, তড়িৎ গতিতে পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সিলেটের রাজন হত্যার আসামীকে প্রবাস থেকে আটক করেছিল জনতা। খাদিজা, তনু, রাজনের চেয়েও করুন পরিনতির শিকার হয়েছে গজারিয়ার কলেজ ছাত্রী সোনিয়া, তবে কেন সোনিয়া হত্যা নিয়ে দেশব্যাপী প্রতিবাধের ঝড় উঠছেনা।
খাদিজা, তনু, রাজনের বর্বরোচিত ঘটনা নিয়ে সারাদেশে প্রতিবাধের ঝড় তোলার নেপথ্যে ছিল স্ব স্ব এলাকার মিডিয়া কর্মীরা। মুলত স্থানীয় মিডিয়া কর্মীদের কাভারেজের ব্যাপকতায় টনক নড়েছে সরকারের উচচ মহলের, সচেতনটা ও জাগ্রত করে তুলেছে দেশের সাধারন মানুষের বিবেককে। সোনিয়ার বেলায় এটা সম্ভব হচেছনা কেন? আমার ব্যক্তিগত অভিমত আলোচিত এই হত্যাকান্ড নিয়ে স্বানীয় মিডিয়া কর্মীরা আশানুরুপ ফলাফল দেখাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকাগুলো গেটে দেখলাম সোনিয়া হত্যাকান্ড নিয়ে যে সকল রিপোটগুলো ছাপা হয়েছে, বেশী সংখ্যক রিপোটগুলোতে করেছে, স্ব স্ব পত্রিকার নিউজ ডেস্ক, মেডিকেল প্রতিনিধি বা জেলা প্রতিনিধি। দুর থেকে তাদের যতটুকু তথ্য কালেকশন করা সম্ভব হয়েছে রিপোটে তাই ছাপা হয়েছে। মুলত সরেজমিনে রিপোটিংয়ের ঘাটতিতে সোনিয়া হড্যাকান্ড মিডিয়া, প্রশাসন, সরকারের উচ্চ মহলে প্রতিবাধের ঝড় তুলা সম্ভব হচেছনা। যেমন গজারিয়ার প্রতিনিধির বরাতে দৈনিক যুগান্তরে যে রিপোটটি ছাপা হয়েছে, সেই রিপোটকাকে আমলে নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন, পাশাপাশি এই তথ্য কালেকশন করা সম্ভব হয়নি, নিউজ ডেস্ক, মেডিকেল প্রতিনিধি কিংবা জেলা প্রতিনিধির। আমার মনে হচেছ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত রিপোাটের সুত্র ধরে সোনিয়া হত্যার রহস্য উদঘাটনের সম্ভবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায়না। যুগান্তরের রিপোটে বলা হয়েছে এই ঘটনার নায়ক স্থানীয় আতিকনগরের জমির দালাল রাজন। সোনিয়ার চাচা আনোয়ার হোসেনের বরাত দিয়ে প্রকাশিত রিপোটে বলা হয়েছে বিগত পাচ বছর ধরে স্কুল কলেজে যাওয়া আসার পথে সোনিয়াকে রাজন প্রায় উতক্ত করেছে। রাজনের অবশ্যই জানার কথা, মাত্র কয়েকদিন পরেই খালাত ভাই হারুনের সাথে সোনিয়ার বিয়ে হতে যাচেছ। নিজের জিদ এবং ক্রোধ মেটানের এই সময়টাই রাজনের মুক্ষম সময় হওয়ার কথা। কিন্তু এই বিষয়টাকে আমলে নিচেছনা কেন সংশ্লিষ্ট মামলার আইও? দৈনিক সমকালে আজকের পত্রিকায় গজারিয়ার প্রতিনিধি বরাতের প্রকাশিত রিপোটে একই ধরনের ঈগিত দেয়া হয়েছে। তবে ঘটনার শুরুতে একমাত্র দৈনিক সমকালে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। স্থানীয় মিডিয়া কর্মীদের মধ্যে সমকাল প্রতিনিধি নিয়মিত নিউজটি কাভারেজ করছে। তবে দুএক জন মিডিয়া কর্মীদের দিয়ে সারাদেশে প্রতিবাধের ঝড় তুলা অসম্ভব ব্যাপার। তবে অধিক সংখ্যক স্থানীয় মিডিয়া কর্মীদের এবিষয়ে দৃশ্যমান একটি রিপোটও চোখে পড়ের মতো দেখলামনা।
এরকম ঘটনায় যেখানে খোদ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী ঘটনার স্থলে হাজির হওয়ার অসংখ্য নজির ইতিপুর্বে দেখা গেছে, সেখানে ঘটনাস্থলে সরজমিনে অদ্যবধি আসেনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এমনকি জেলার শীর্ষ কোন কর্মকর্তা কিংবা এদের প্রতিনিধিরাও।
গতকাল ডা: আব্দুল গাফ্ফার স্কুল এন্ড কলেজে সোনিয়া হত্যার প্রতিবাধে প্রতিসভা এবং মানব বন্ধন হয়েছে কলেজ কম্পাউন্ডের ভিতরেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হাফেজ আহম্মেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ছারা উপরোস্ত কর্মকর্তা, এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিদেরকে দেখা যায়নিন। এদিকে মিডিয়া কর্মীদের গাফিলতিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও এই ঘটনা নিয়ে গা ছাড়া গা ছাড়া ভাব। জানা মতে আজ পর্যন্ত সোনিয়ার বাড়ীতে আসেনি আওয়ামীলীগ বিএনপি দুদলের নেতৃবৃন্দ। ( তবে জানাজায় এসেছিল উপজেলা চেয়ারম্যান)। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল কথা বলে বড় বড়, দাবী করে বড় বড় নেতা। কলেজ ছাত্রী সোনিয়াকে আগুনে পুড়ে মেরে ফেলা হয়েছে অথচ দুটো ছাত্র সংগঠনের একজন নেতাও সোনিয়ার বাড়ীতে আসার সুযোগ হয়নি। শোনতে লজ্জা লাগে, সমাবেদনা জানানোর দরকার মনে সোনিয়ার পরিবারকে। আজ যদি সোনিয়ার বাবা কোটি পতি হতো, তবে দেখা যেত গজারিয়ার সকলস্তরের নেতাদের মিলন মেলা।পরিশেষে গজারিয়ার সর্বস্তরের জনতার কাছে প্রত্যাশা সোনিয়া হত্যার প্রতিবাধে সকলে সোচছার হবে, এগিয়ে আসবে সোনিয়া হত্যার বিচারের দাবীতে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *