Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / মুন্সীগঞ্জ বনাম বিক্রমপুর- পর্ব ৫

মুন্সীগঞ্জ বনাম বিক্রমপুর- পর্ব ৫

আব্দুর রশিদ খান :-প্রাচীন বিক্রমপুরের যে ভৌগলিক সীমা পাওয়া যায় তা হল দক্ষিণে ইদিলপুর ( বর্তমান মাদারীপুর), পুর্বে ব্রম্মপুত্র ( বর্তমান মেঘনা), উত্তরে বুড়িগঙ্গা আর পশ্চিমে পদ্মা(পদ্মা তখন বিক্রমপুরের উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহমান ছিল)।
পাল রাজাদের শাসনামলে বিক্রমপুরের নাম পাওয়া যায়। দক্ষিণবঙ্গে চন্দ্র বংশের উত্থাণ ঘটলে তারা বঙ্গের রাজধানী সরিয়ে আনেন বিক্রমপুরে। এর পরে বর্ন্মণ বংশের রাজধানী ও ছিল বিক্রমপুরে। দক্ষিণ ভারতের হিন্দু রাজা সেন বংশীয়রা বঙ্গের ক্ষমতা দখলে নিলে তাদের ও অন্তত: একটি রাজধানী ছিল বিক্রমপুরে। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী যখন গৌড় বা লক্ষণাবর্তীতে বা নদীয়ায় লক্ষণসেনের রাজ্য দখলে নিতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হন তখন তিনি খিড়কির দরজা দিয়ে পালিয়ে বিক্রমপুর চলে আসেন। এর পর সেনরাজারা শতবর্ষ বিক্রমপুরেই অবস্থান করে শাসনকার্য চালান। ২য় রাজা বল্লাল সেনের পতনের পর বিক্রমপুরে সেন শাসনের অবসান ঘটে। সুলতানী আমলে বিক্রমপুর তার গৌরব হারায়। বার ভুইয়া শাসকদের চাঁদ রায় কেদার রায় পরাজিত হলে ভুখন্ড বিভক্ত হয়ে বিক্রমপুরের একটি অংশের রাজধানী হয় শ্রীপুর, পরে শ্রীপুরও পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
সেন বংশের পরে ১২৮০ খৃস্টাব্দে রাজধানী সোনারগাঁও এর সন্নিকটে সুবর্ণগ্রামে চলে গেলে তখন থেকেই সমগ্র সুলতানী আমলে বিক্রমপুরের এ অঞ্চলটি বিস্মৃতির পাতায় থেকে যায়, শুধুমাত্র মুঘল রাজস্ব তালিকায় ‘পরগণা’ হিসেবে বিক্রমপুরের নাম পাওয়া যায়।
সতের শতকে পদ্মা এ অঞ্চলে ব্যপক ধ্বংশসাধন করে। চাঁদ রায় কেদার রায়ের মহৎ কীর্তিগুলো গ্রাস করে কীর্তিনাশা অর্থাৎ পূরাকীর্তির বিনাশক নামে আখ্যায়িত হয়। এক সময় বিক্রমপুরের সীমানা সংকুচিত হয়ে পূর্ব পশ্চিমে ৩০-৪০ মাইল ও উত্তর দক্ষিণে ৮-১০ মাইলে এসে দাঁড়ায়। বিভিন্ন রাজ রাজাদের যেমন রাজা রাজবল্লভের ওপাড়ের রাজনগরের বিলদাওনিয়া গ্রামে গড়ে তোলা প্রাসাদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে তিনি লৌহজং এর বেজগাঁও গ্রামে পুনরায় প্রাসাদ গড়ে তুলেন, যার ধ্বংশাবসেষ- যেটি খুঁজে পাওয়া গেছে, অনুমিত হয় এটিই রাজবল্লভের অবশিস্ট কীর্তি, কারণ বাড়িটিতে দরবার হল, নাচঘর, কতোয়াল ঘর, প্রহরীঘর, পূজার ঘরসহ বিশাল প্রমোদখানা অস্তিত্ব বুঝা যায়, চার দিকে চারটি দিঘী ছিল, আন্ধিপুকুর নামের দিঘীটি এখনো আছে, এ পুকুরে মানুষ হত্যা করে নিক্ষেপ করা হত বলে জনশ্রুতি আছে। ‘বিক্রমপুরের ইতিহাস পরিষদ’ এটি চিহ্নিত করেন। কথিত আছে এ প্রাসাদটি রাজবল্লভ একটি কাজে খুশী হয়ে শ্রীনগরের অধিপতি লালাকীর্তি নারায়ণ বসুকে উপহার দিয়েছিলেন পরে রাজবল্লভের ছেলে গঙ্গাদাসের ভয়ে লালা বাবু দাবী ছেড়ে দেন।
আওরঙ্গজেবের রাজত্বকাল শেষে নবাব/দেওয়ান মুর্শিদকুলী খানের সময়ে পরিবর্তিত ভূখন্ডের বিক্রমপুরকে ৮টি তালুকে বিভক্ত করা হয় এ গুলো হল ভাগ্যকূল, শ্রীনগর, মাইজপাড়া, সিংপাড়া, তালতলা, সিরাজদিখান, লৌহজং ও বালিগাঁও। প্রতিটি তালুকে একজন করে জমিদার নিযুক্ত করা হয়েছিল। আমাদের পাশে মাইজপাড়ার জমিদার নিযুক্ত হয়েছিলেন গোবিন্দ প্রসাদ রায়। এতোকাল যে মঠটি মাথা উঁচু করে ইতিহাসের কালের স্বাক্ষ্য বহন করে আসছিল- সেটি ছিল তাঁর ছেলে তাঁরা প্রসাদ রায়ের স্মৃতিস্থম্ভ। প্রায় অবিভাবক বিহীন মঠের চূড়ায় স্থাপিত কলসে ধণরত্নের লোভে সেটি কুক্ষিগত করতে গিয়ে আঘাতে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে উপড়ের দূর্বল অংশটি গত ৩০-০৭-২০১২ তারিখে ভেঙে নিচে পড়ে যায়। থানা পুলিশ এসে কলসটি নিয়ে যায়, পরে লোকমুখে জানা গেছে পুলিশ কলসে কিছু পায় নি। চলবে-

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *