Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / বিক্রমপুর বনাম মুন্সীগঞ্জ পর্ব- ৬

বিক্রমপুর বনাম মুন্সীগঞ্জ পর্ব- ৬

 

আব্দুর রশিদ খান :-নদীয়ায় ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর হাতে পরাজিত হলে লক্ষণ সেন বিক্রমপুর অঞ্চলে চলে এসেছিলেন। তাঁর দুই পুত্র বিশ্বরূপ সেন ও কেশব সেন এর তাম্র শাসনকালে রাজধানী রুপে মুন্সীগঞ্জের নাম উল্লেখ না থাকলেও তারা যে জমি দান করেছিলেন তার অবস্থান ছিল মুন্সিগঞ্জ ভাগে। ১২৮০ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁও এর সুবর্ণগ্রামে রাজধানী স্থানান্তর হলে তখন থেকেই এ অঞ্চলটি বিস্মৃতির পাতায় থেকে যায়। এরপর মূঘল আমলে রাজস্ব তালিকায় বিক্রমপুরকে ‘পরগণা’ হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায়। তারও আগে পাল আমলে বাংলার রাজধানী ছিল বিক্রমপুর, হিন্দু পূরাণের একজন রাজার নাম ছিল বিক্রমাদিত্য, ধারণা করা হয় তার নামানুসারেই ‘বিক্রমপুর’ নামের উৎপত্তি। নবম শতাব্দীতে রাজধানী রামপালকে কেন্দ্র করে শ্রীবিক্রমপুর নাম পরিচিতি পায়। ‘বিক্রম’ অর্থ সাহস বা বীরত্ব, ‘পুর’ অর্থ নগর বা এলাকা। ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি মূঘল শাসনামলে মিরজুমলা এখানটায় সেনানিবাস তৈরি করলে ইদ্রাকপুর কেল্লার ‘ইদ্রাক’ নামের ফৌজদারের নামানুসারে এলাকাটির নাম হয় ইদ্রাকপুর। পরবর্তীতে মুন্সীগঞ্জ নামকরণের ১ম প্রচলিত মতবাদে লর্ড কর্নওয়ালিসের ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় পাশের কাজী কসবা গ্রামের মুন্সী এনায়েত আলীর জমিদার ভূক্তির পর তার নামানুসারে এলাকাটির নাম হয় মুন্সীগঞ্জ। ২য় মতবাদে মূঘল শাসনামলে ফৌজদারি আদালতের প্রধান হায়দার আলী মুন্সীর নামানুসারে এলাকার নাম হয় মুন্সীগঞ্জ। ৩য় মতবাদে জনশ্রুতি আছে, ষোলঘর ও বজ্রযোগিনী এলাকার মুন্সী উপাধিধারী হিন্দু জমিদারদের নামানুসারেই এলাকার নাম হয় মুন্সীগঞ্জ। ১৮৪৫ সালে ব্রিটিশ ভারত তাদের প্রশাসনিক নথিতে এলাকাটিকে মুন্সীগঞ্জ মহকুমা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ইদ্রাকপুর কেল্লাকে ঘিরেই মহকুমার কেন্দ্রবিন্দু আবর্তিত হওয়ায় প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত মহকুমা কর্মকর্তা ও বিচারক MR. JOHN FRENCH সেখানেই যোগদান করেন। ১৮৪৫ সাল হতে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মহকুমা প্রশাসকের বাসভবন হিসেবে ইদ্রাকপুর কেল্লাটি ব্যবহৃত হয়েছে। চলবে-

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *