Home / জাতীয় / পদ্মার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি বাড়ি ও বাজার আশ্রয়ের অভাবে রাত কাটছে নিঘুম পানি বন্দি মানুষের

পদ্মার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি বাড়ি ও বাজার আশ্রয়ের অভাবে রাত কাটছে নিঘুম পানি বন্দি মানুষের

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহদিমদ মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী দুই উপজেলার পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ¯্রােতের তীবব্রতা-তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন তান্দব শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে। গত রবিবার রাতে লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া গ্রামের রামা ডাক্তার বাড়ির এক অংশ পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। গাঁওদিয়া ও ছত্রিশ গ্রামের ৬/৭টি বসতবাড়ি, ফসলি জমি, খেলার মাঠ, ও বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানঘর আকস্মিক ভাঙনে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। পার্ষপর্ত্রি গ্রামের শামূর বাড়ি এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। মাওয়া কান্দিপাড়া যশলদিয়া অব্যহত বর্ষনে যোয়ারের পানিতে তলিয়ে প্রায় ৫০০ (পাঁচশত) ঘরবাড়ি। আশ্রয়ের অভাবে নিঘুম রাত কাটছে পানি বন্দি মানুষের ,ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকের পরিবারের চলছে হাহাকার। কুমারভোগ, খড়িয়া ইউনিয়নের, শিমুলিয়া বাজার, মেদিনীমন্ডল পুরাতন ফেরিঘাটএলাকা সহ নদী-তীরবর্তী বেশ কিছু এলাকায়ও দেখা দিয়েছে পদ্মার ভাঙন। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা নদী-তীরবর্তী ও আশপাশের এলাকায় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন কেউবা ইস্কুলের বাড়ান্দায় এ ছাড়া কিছো বসতবাড়ি যে কোনো সময় পদ্মায় বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্ঠা চলছে। টঙ্গিবাড়ী পাঁচগাঁও, হাসাইল, কামারখাড়া ও দীঘিরপাড় এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ¯্রােতের তীব্রতা বেড়ে গেছে।নদী-তীরবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়ায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার পর থেকে পদ্মার ভাঙন শুরু হওয়ায় লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া ইউনিয়নে একটি বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে গাঁওদিয়া বাজারের মসজিদসহ তিনটি মসজিদ,মাদ্রাসা, জৈনপুরী পীরের খানকা শরিফ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ, একটি খেলার মাঠ, চারটি ক্লাব। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির গ্রামের বাড়ি । বিখ্যাত লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানাবাড়ি, শামুরবাড়ি, ইউনুছ খান মেমোরিয়াল হাসপাতাল, মসজিদ, হাড়িদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, খেলার মাঠ, কবরস্থান, প্রাথমিক বিদ্যালয় গাঁওদিয়া বাজারের বাকি অংশ, কমিউনিটি ক্লিনিক, সহ বিভিন্ন স্থাপনা। এমনকি লৌহজং-বেজগাঁও-গাঁওদিয়া বেড়িবাঁধটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে।এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ও লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার । এ সময় তারা গাঁওদিয়া গ্রামসহ লৌহজংয়ের নদী-তীরবর্তী এলাকায় শুরু হওয়া পদ্মার ভাঙন তানদব ঠেকাতে দ্রূত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।ভাঙনে ক্ষতি গ্রস্ত রমিজ মিয়া জানান, ১৯৯৩ সালের কোন এক সময়ে লৌহজং এলাকা ভাঙনের কবলে পড়লে উপজেলার ধাইদা, ধানকুনিয়া,তেলিপাড়া, সহ একাধিক গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। পরে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের রানাদিয়া, হাড়িদিয়া, বড় মোকাম, গ্রামের একাংশ পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।চলতি বর্ষা মৌসুমে আবারও ভাঙন শুরু হওয়ায় গাঁওদিয়া গ্রামের বাকি অংশটুকুও পদ্মায় বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে লৌহজং উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গাঁওদিয়া গ্রামটি।লৌহজংয়ের ইউএনও মো. মনির হোসেন জানান,গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে পদ্মা উত্তাল হয়ে উঠেছে। এতে ¯্রােতের তীব্রতা বেড়েছে। তবে পদ্মার ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া গ্রামে ৬/৭টি বসতবাড়ি এমন তথ্য গতকাল সমবার ভাঙন কবলিত এলাকায় লৌহজং ভাইস চেয়ারম্যান সহ পরিদর্শন করেছি।তারপরও খোঁজখবর নেওয়া হবে। ভাঙন ঠেকাতে মুন্সীগঞ্জ জেলা জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি কে দ্রূত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপাড়ে জানিয়েছি।এব্যাপারে মেদিনীমন্ডল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ও চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন খান বলেন,হুহুকরে কদিন ধরে পানি ফুলে উঠায় মেদিনীমন্ডল সহ তিন চারটি গ্রামের উপর কোন স্থানে উন্নতি দেখা যাচ্ছে না কারনে , অর্তনাদ গ্রামবাসির তাই নিজ খরচে আজ মাওয়া ভাগ্যকুর রুটের কান্দিপাড়া মোড় অংশে সড়ক সরুকরে চ্যানেল তৈরীকরে পানির পার্সের ব্যবস্থা করে দিয়েছি, তবে না হয়তো এতবাঅবস্থায় যাবে কত দিন, কাটবে কত রাত ,এই দুরভোগ এলাকাবাসির। অভিরাম বর্ষণেবেশ কিছু স্থানে পানি কমতে শুরু করলেও মাওয়া কান্দিপাড়া যশলদিয়া পানিতে তলিয়ে আছে প্রায় ৫শ পরিবার। তাদের জন্য দ্রূত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপাড়ে আমী জানিয়েছি স্থানিয় এম পি কে। উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্রে যানা গেছে চলতি মৌসুমে দশটি ইউনিয়নে দুই হাজার আটশ বাইশ হেকটর জমিতে ইড়ি বুরু সহ আউস ধান তিল পাট সাকশবজি ইত্যাদি আবাদ করা হয়। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে লৌহজং. মাওয়া. যশলদিয়া, কান্দিপাড়া, ব্রামনগাও,সন্দিসা,খিদীরপাড়া, গাউদিয়া,বেজগাও,পয়সামাইজগাও,এই দশটি ইউনিয়নের শত শত একর জমি পানিতে ডুবে আছে।এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ভাগ্যকুল ও মাওয়া পয়েন্টে প্রতিদিনই পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনও পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।######

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *