Breaking News
Home / খেলাধুলা / দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি।

 

images

১৬ জুলাই, শ্রীনগর নিউজঃ সবচেয়ে ভদ্র ক্রিকেটারের প্রতিযোগিতা হলে হাশিম আমলা আর ড্যানিয়েল ভেট্টোরির মধ্যে দারুণ প্রতিযোগিতা হবে। এবং তাতে বোধ হয় আমলাই জিতবেন। একের ভেতর দুই পরাজয়ের শোক সামলে আমলা অভিনন্দন জানালেন মাশরাফিকে। টুপিটা পুরো খুললেন না। খুললে ‘হ্যাটস অফ’ শব্দজোড়া লিখে ফেলা যেত। তবে সব দৃশ্য অভিনীত হয় না। কিছু দৃশ্য কল্পনার চোখে দেখে নিতে হয়। পাকিস্তান অধিনায়ক আজহার আলী কি টুপি খুলেছিলেন? কিংবা ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি? না খুললেও পাকিস্তান-ভারতের পর এবার আরেক ‘বড়’ দল ‘টুপি খোলা’ অভিনন্দনই জানাল বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ। এনিয়ে টানা চারটি সিরিজ জিতল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এর আগে জিম্বাবুয়ে, ভারত ও পাকিস্তানকে হারায় তারা। সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেনদের দাপুটে বোলিংয়ে ছোট লক্ষ্যই পেয়েছিল বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার, তামিম ইকবালের দারুণ ব্যাটিংয়ে সেই রান যেন আরও কম হয়ে গেল! শেষ পর্যন্ত দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ স্বাগতিকরা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ২৩ ওভার পর বৃষ্টি নামলে প্রায় তিন ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। পরে খেলা শুরু হলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪০ ওভারে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৬৮ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান। তামিম-সৌম্যর দৃঢ়তায় ২৬ ওভার ১ বলে এক উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। ২০০৬ সালে একবার করে জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ৫০ রানের উদ্বোধনী জুটি ছিল না। তামিম-সৌম্য অষ্টম ওভারেই দলকে সেই অপূর্ণতা দূর করেন। পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে আগের দুই সিরিজে একটি করে শতরানের জুটি গড়া সৌম্য-তামিম আবার সেই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় সৌম্য। প্রথম ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় কাগিসো রাবাদার ওপর শুরু থেকেই চড়াও হন তিনি। চতুর্থ ওভারেই রাবাদা বলে পয়েন্ট ও কাভারের মাঝখান দিয়ে চারটি হাঁকান সৌম্য, ফিল্ডাররা জায়গা থেকে নড়তেই পারেননি। অষ্টম ওভারে রাবাদার বলে টানা তিনটি চার তুলে নেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই সেরা বোলার ইমরান তাহির ও মর্নে মরকেলের প্রথম ওভারে একটি করে চার হাঁকিয়ে সৌম্য জানান দেন, তাকে থামানো কঠিনই হবে। সেই কাজটি যখন করতে পারলেন অতিথিরা জয় থেকে বাংলাদেশ তখন মাত্র ১৬ রান দূরে। দলকে দারুণ জয়ের দিকে নিয়ে গেলেও এই ব্যাটসম্যানকে ফিরতে হয় হতাশা নিয়ে। মাত্র ১০ রানের জন্য শতক পান নি তিনি। ইমরান তাহিরের বলে সৌম্য শর্ট কাভারে হাশিম আমলার হাতে ধরা পড়লে পিন পতন নীরবতা নেমে আসে স্টেডিয়ামে। ৯০ রান করতে ৭৫ বল খেলেন সৌম্য। তার আগ্রাসী ইনিংসটি ১৩টি চার ও একটি ছক্কা সমৃদ্ধ। সৌম্য রুদ্র মূর্তির সামনে অসহায় অতিথিরা তামিমকে আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শুরু থেকেই দেখেশুনে খেলা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দেননি। প্রান্ত বদল করে খেলার দিকেই মনোযোগী ছিলেন তিনি। সৌম্যর বিদায়ের পর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন তামিম। শেষ পর্যন্ত ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ৭৭ বলের ইনিংসটি সাজানো ৭টি চারে। ২৭তম ওভারের প্রথম বলে মিডউইকেট দিয়ে চার হাঁকিয়ে লিটন দাস জয় এনে দেওয়ার সময় বাংলাদেশ ইনিংসের ৮৩ বল বাকি! এর আগে আঁটসাঁট বোলিংয়ের পুরস্কারটা শুরুতেই পেয়ে যায় বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমানের ভালো একটি বলে বোল্ড হয়ে যান কুইন্টন ডি কক। চাপ বাড়াতে ষষ্ঠ ওভারেই সাকিবকে বোলিংয়ে আনেন মাশরাফি। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ফাফ দু প্লেসিকে ফিরিয়ে দেন সাকিব। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারের বলে সুইপ করতে গিয়ে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি হন দু প্লেসি। টানা পাঁচ ওভারের প্রথম স্পেলের শেষ ওভারে আবার আঘাত হানেন সাকিব। দ্বাদশ ওভারে তার বলে সাব্বির রহমানের হাতে একবার জীবন পান আমলা। তবে পরের ওভারেই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ককে ফেরান সাকিব। আমলাকে আউট করে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে দুইশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব। একই সঙ্গে ওয়ানডের ইতিহাতে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে চার হাজার রান ও দুইশ’ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই আঘাত হানেন মাহমুদউল্লাহ। এই অফস্পিনারের বলে বোল্ড হয়ে যান রাইলি রুশো। তার বিদায়ে অতিথিদের স্কোর দাঁড়ায় ৫০/৪। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলেন ডেভিড মিলার-জেপি দুমিনি। মিলার-দুমিনির বিপজ্জনক হয়ে উঠা ৬৩ রানের জুটি ভাঙার কৃতিত্ব মাশরাফির। তার বলে পয়েন্টে মিলারের দুর্দান্ত ক্যাচ তালুবন্দি করা সাব্বিরের অবদানও কম নয়। ‘কিলার’ মিলার ওয়ানডেতে মাশরাফির দুইশতম শিকার। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন আগের দুই ওয়ানডেতে কোনো উইকেট না পাওয়া সাকিব। তার বলে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে লংঅনে সাব্বিরে ভালো ক্যাচে পরিণত হন ফারহান বেহারদিন। ৩৩ রানে তিন উইকেট নিয়ে সাকিবই বাংলাদেশের সেরা বোলার। দ্বিতীয় ওয়ানডের মতো এবারও দারুণ এক কাটারে রাবাদাকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। ইনিংসের শেষ ওভার করতে এসে কাইল অ্যাবটকে বোল্ড করে নিজের প্রথম উইকেট নেন পেসার রুবেল হোসেন। শেষ বলে সর্বোচ্চ ৫১ রান করা দুমিনিকেও আউট করেন তিনি। ঢাকায় প্রথম দুই ওয়ানডেতে খুব একটা দর্শক না থাকলেও চট্টগ্রামে গ্যালারি ছিলো প্রায় পূর্ণ। প্রায় দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতেও দর্শক কমেনি, আবার খেলা শুরুর হওয়ার পর বরং দর্শক আরও বাড়ে; যথারীতি তারা ছিলেন স্বাগতিকদের ‘দ্বাদশ’ খেলোয়াড়ের ভূমিকায়। সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪০ ওভারে ১৬৮/৯ (ডি কক ৭, আমলা ১৫, দু প্লেসি ৬, রুশো ১৭, মিলার ৪৪, দুমিনি ৫১, বেহারদিন ১২, রাবাদা ১, অ্যাবট ৫, মরকেল ১*; সাকিব ৩/৩৩, মুস্তাফিজ ২/২৪, রুবেল ২/২৯, মাহমুদউল্লাহ ১/২০, মাশরাফি ১/২৯) বাংলাদেশ: ২৬.১ ওভারে ১৭০/১ (তামিম ৬১*, সৌম্য ৯০, লিটন ৫*; তাহির ১/৩৭) ম্যাচ সেরা : সৌম্য সরকার সিরিজ সেরা: সৌম্য সরকার

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *