Home / বাংলাদেশ / ঢাকা বিভাগ / মাঠে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা, পিছিয়ে নেই জামায়াত

মাঠে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা, পিছিয়ে নেই জামায়াত

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ)সংবাদদাতা:
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জ-১ ( শ্রীনগর-সিরাজদিখান ) আসনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে, পিছিয়ে নেই জামায়াত ইসলামী। মুন্সীগঞ্জ ৩ টি আসনের মধ্যে একটি গুরুত্ব পূর্ন আসন হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ -১ আসন। শ্রীনগরÑসিরাজদিখান দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-১ আসন। এখানে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনে রয়েছে প্রকাশ্য বিরোধ। বিএনপি ও আওয়মী লীগের মধ্যে রয়েছে পাল্টাপাল্টি কমিটিও। তবে এ আসনে বিকল্পধারা, জাতীয় পার্টিসহ বামদলগুলোর ভোট হাতে গোনা। তৃতীয় স্থানে আছে জামায়াত ইসলাম। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে স্বাধীনতা পরবর্তী বছরের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা: বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেনের আধিপত্য ছিল। বি. চৌধুরী বিএনপি থেকে ৫ বার এবং তার ছেলে মাহী বি. চৌধুরী ১ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে পরাজয়ের পর বি. চৌধুরী ও মাহী বি. চৌধুরী এলাকায় খুব একটা আসেননি। অন্য দিকে শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন বিএনপিতে যোগ দেওয়ায় নিজেকে ধরে রাখতে পেরেছেন। তবে বর্তমানে বিএনপি দলের মধ্যে প্রকাশ্য কোন্দল রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্যপ্রার্থী তালিকায় শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মমিন আলী।তিনি ২০০৪ সালে নির্বাচনে বিএনপির টিকিট পেয়ে বিকল্পধারা প্রার্থী মাহী বি. চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরো রয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু ও সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি শেখ মো: আব্দুল্লাহ। তবে মীর সরফত আলী সপু পক্ষে রয়েছেন বেশির ভাগ নেতাকর্মী।

এছারা দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন এমনটা নিশ্চিত করে বলছেন তার সমর্থকেরা। মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে সাধারণ জনগণের কাছে জনপ্রিয় হয়ে হয়ে উঠেছেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবির। দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতীক ভাবে মাঠে রয়েছেন। ফলে তরুনদের একটা বড় অংশ তর সথে রয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকায় প্রচার-প্রচারণা ও দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করাতে গ্রহণযোগ্যতার দিক দিয়ে তিনি অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।
অন্য দিকে প্রার্থী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের প্রেসিডেন্ট নুরুল আলম চৌধুরী। তিনি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী। নুরুল আলম চৌধুরী জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাাপ্ত সংগঠনের সিপিআই। তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে দলীয় নমিনেশন চেয়ে আসছেন। জনগণের সাথে তার এখনো যোগাযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মহিউদ্দিন আহাম্মেদ।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে ডাঃ আঃ লতিফ হাওলাদার প্রার্থী হতে পারেন। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী’র মধ্যে হবে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই। এ ক্ষেত্রে বিকল্পধারার প্রার্থী হবেন ডা: বি. চৌধুরী ছেলে মাহী বি. চৌধুরী। তবে অনেকেই বলছেন, জোটবদ্ধ নির্বাচন ছাড়া তারা নির্বাচন নাও করতে পারেন।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *