Home / অর্থনীতি / ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বেদেদের শিক্ষার জন্য উদবুদ্ধকরণে মুন্সীগঞ্জ প্রশাসনের বেদেপল্লি পরিদর্শণ

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বেদেদের শিক্ষার জন্য উদবুদ্ধকরণে মুন্সীগঞ্জ প্রশাসনের বেদেপল্লি পরিদর্শণ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং সহ তিনটি উপজেলায় ১৩ হাজার বেদে পরিবার বসবাস করছে। বেদে নামটির অবজ্ঞাসূচক ডাক বাইদ্যা (হাতুড়ে ডাক্তার) পরিমার্জিত বৈদ্য (চিকিৎসক) থেকে উৎপত্তি। আরকান রাজ্যের মনতাং থেকে এসেছে বিধায় প্রথমদিকে এদেরকে মনতাং বলা হলেও কালের পরিবর্ত্বে এরা চিকিৎসক অর্থাৎ কবিরাজিতে সম্পৃক্ত হওয়ায় বৈদ্য বাইদ্যা থেকে তারা বেদে উপাধি পায় ।এরা নৌকায় ঘুরে বেড়ায় গ্রাম থেকে গ্রাম, বন্দর থেকে বন্দরে। মাঝে মধ্যে স্থলে নোঙর ফেলে টোড়ী বা তাঁবুতেও বাস করে। বাংলাদেশে বেদে জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কত এর পরিসংখ্যান জানা নেই কারো। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আজ রবিবার দুপুরে বেদে সম্প্রদায়কে উদবুদ্ধকরণে সিরাজদিখান প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেদেপল্লি পরিদর্শণ করা হয়। উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের তালতলা বেদেপল্লি পরিদর্শণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানবীর মোহাম্মদ আজিম। সুবিধাবঞ্চিতদের চিকিৎসা, শিক্ষা, জন্মনিবন্ধন, স্যানিট্রেশন, বাল্যবিয়ে নিয়ে মোটিভেশন করা হয়। এছাড়া ভূমিহীনদের ডাঙায় বাস করার দাবীতে আলোচনা করা হয়। সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানবীর মোহাম্মদ আজিম জানান, অনেকদিন ধরে তাদের বিভিন্ন পুঞ্জিভূত সমস্যা ছিল, যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা, স্যানিট্রেশন, বাল্যবিয়ে। এছাড়া তাদের মধ্যে কুসংস্কারের কারণে টিকা দেওয়ার প্রবনতাটা কম ছিল। সামাজিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে ওদেরকে মোটিভেট করে সরকারের সেবাগুলোর আওতায় যাতে আনাযায়। আমি স্বাস্থ্যকর্মি ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে তাদের সাথে কথা বলেছি। তাদের কিছু সুযোগ সুবিধা বারিয়ে দেওয়া গেলে বাল্য বিয়ে বন্ধো এবং শিক্ষার প্রজনিয়তা সম্পর্কে তারা আরো সচেতন হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালখানগর ইউপি সচিব আমিনুল ইসলাম, সদস্য হারুন অর রশীদসহ স্বাস্থ্যকর্মি ও স্থানীয় প্রতিনিধিবুন্দ। লৌহজং বেদে গুষ্ঠি নেতা এনামুল হক . তাদের ইতিহাস টেনে বলেন ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে শরণার্থী আরাকান রাজ বল্লাল রাজার সঙ্গে এরা ঢাকায় আসে বেদেরা। বাঙ্গালির অতি পরিচিত নৃত-গোষ্ঠী। সাধারণত বাদিয়া বা বাইদ্যা নামে পরিচিত। এরা এক ধরনের পেশাজীবী গোষ্ঠী। পরে এরা ইসলাম ধর্ম দীক্ষা নেয়। সেই ততকালিন সময়ে ঢাকা থেকে প্রথমে বিক্রমপুর অঞ্চল পরে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে এরা ছড়িয়ে পড়ে। আবার ভিন্ন মতও আছে। বেদেদের জীবন বড়ই বিচিত্র। সুত্রে জানাগেছে তাদের ধর্মমত, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান, চলাফেরা, কথাবার্তা- সবকিছুতে এক ধরনের রহস্যময়তা দেখা যায়। যাচাই করে দেখা বেদেদের ভাষায় অন্য সাধারণরা কথা বলতে ওপারে না। কারণ তাদের ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিল নেই অনেকটা । কেউ সঠিক করে বলতে পারে না- এরা কারা! কোথায় তাদের আদি নিবাস।এটি একটি স্বতন্ত্র ভাষা, যা জটিল ও দুর্বোধ্য। বেদেরা নিজেদের ‘মাঙতা’ বা ‘মানতা’ নামে ডাকে।মাঙতা অর্থ মেগে বা ভিক্ষা করে খাওয়া। তারা সাপ, বাঁদর, ভাল্লুক ইত্যাদি নাচিয়ে, শারীরিক কসরত- জাদুর খেলা দেখিয়ে, শিঙ্গা বসিয়ে, শেকড়-বাকড় ও তাবিজ-কবজ বিক্রি করে, তন্ত্র-মন্ত্র পড়ে- লোকজনদের থেকে যা পায় তা-ই দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে বলে তারা নিজেদের ‘মানতা’ নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।বাংলা মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৭ শতকে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানে বেদেরা প্রথম বসতি গড়ে তুলেন, পাষেই শ্রীনগর ও লৌহজংয়ের খড়িয়া, গোয়ালীমান্দ্রা তেও ,এদের বসবাস চোখে পড়ে। জমির মলিকানা, স্থায়ী নাগরিকত্ব ও ভোটার হওয়ার জন্য এদের আন্দোলনও করতে হয়েছিল দুই যোগ আগে ,বর্তমানে গোয়ালীমান্দ্রা এলাকায় এদের সাবেক পেশা যেমন ঝাড়ফুক, সাপের খেলা, যাদু, কবিরাজী, তাবিজ বিক্রি, চুড়ির ব্যবসা ইত্যাদি। এ এলাকায় তাদের সরকারী নিতিমালায় নির্বাচিত মেম্বার ও আছে। সাথে পাচ বছরের মত বর্তমান রাজনৈতিক দলের কমিটিও রয়েছে ,আওঃ যুবলীগ সভাপতি মান্নান , সেক্রেটরী আঃ রউফ। আয় রোজগার কমে গেলে তাদের জীবনযাত্রায় নানামুখী পরির্বতন ঘটতে থাকলে । কৃষিআবাদ , দিনমজুরির কাজ করে এদেরকে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। তাদের কেউ কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িত কথাটাও শোনা গেছে । লৌহজংয়ের খরিয়াগ্রামে ,বেদে সম্প্রদায়ের মহল যোগ্য আনোয়ার,মাসুম মাদবর ,সৈয়দ মাদবর, সম্বু মাতুব্বর ,পান্না মাতুব্বর ,নুরুল হক মাতুব্বর ,ও মজনু মাতুব্বর সহ সংশ্লিষ্ট আনেকের সংগে আলাপ কালে বেরিয়ে আসে তাদের দুঃখ কষ্ট দুর্দশার দিন , তারা বলেন আমার এলাকায় ৪৫বছরে র বসবাস নেইকোন সরকারী উন্নয়ের লক্ষ্যে পরিবারের জীবনমান,উন্নয়ের লক্ষ্যে, নেই বাচ্চাদের শিক্ষা প্রতিস্থান ও ৬০ ভাগ লোকের মাথা ঠোকার বাসস্থান নেই একটি করব স্থান নেই ঈদের নামাজের জন্য।মুশুল্লিদের ঈদগাহ মাঠ, কোন রকম এক বেলা খেতে পাইলে অন্য বেলায় নাখাওয়ার মতোই চিন্তা রেখে দিনযাপন করতে হয় । আমাদের এ করুন ইতিহাস খোজ নেয়ার এ৪৫ বছরেও নেয়নি কেউ ।শুনেছি বেদে পরিবারের জীবনমান উন্নয়ের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ,গত জুনে উপজেলায় গোয়ালী মান্দ্রা বেদে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী ”আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘লৌহজংয়ের তিনটি ইউনিয়নের চার হাজার বেদে পরিবারের জীবনমান উন্নয়ের লক্ষ্যে এখানে নেয়া হবে পাইলট প্রকল্প। এখান থেকে শুরু করে সারাদেশে এ ধরনের প্রকল্প নেয়া হবে।বেদে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নের কাজ করছে সরকার। বঙ্গবন্ধু এই দেশেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন আর সেই স্বপ্নএক বাস্তবে রুপ দিচ্ছেন তারই কন্যা দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ থেকে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে আমরা একটি সফল উন্নত জাতীতে পরিনিত হবো। আমরা সেই সু দিনের উন্নয়নের লক্ষ্যে অপেক্ষায়

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *