Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / জীবনে পরাজয় বলে কিছু নেই, সবটাই অভিজ্ঞতা

জীবনে পরাজয় বলে কিছু নেই, সবটাই অভিজ্ঞতা

বিক্রমপুরের আদিবাসিন্দা হলেও ইঞ্জিনিয়ার বাবা আব্দুল হালিমের বদলির চাকরির কারণে জন্ম সিলেটের ছাতকে, সেই সূত্রে প্রথম স্কুলে ভর্তি হন ছাতকের এসপিপিএম হাইস্কুলে। তিন বোনের একমাত্র ভাই হলেও সংসারে বিশেষ সুবিধা পাননি। মা ফরিদা বেগম তার তিন কন্যার মতোই ছেলেকে ভাবতেন, পরিবারে তাই সমঅধিকার, স্বাধীনতা ও আত্মসম্মানবোধের চেতনা নিয়েই ছেলেবেলা কেটেছে অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাঙালিদের কাছে জনপ্রিয় পত্রিকা মাসিক মুক্তমঞ্চ-এর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীমের। মূলত পরিবারের কাছ থেকেই শেখা ধর্ম, নৈতিকতা, স্বাধীনতাযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের কথা। রাজনীতির হাতেখড়ি স্কুলে থাকাকালেই, ব্যবসার হাতেখড়ি কলেজে। ডানপিটে হওয়ার কারণে বিপদে কম পড়েননি, তবে জীবনে পরাজয় নেই, ক্রমশই শিখেছেন। এখনো অবাক হওয়ার ক্ষমতা হারাননি, পৃথিবীকে উদযাপন করেন দু’হাত তুলে।

আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীমের শুরুটা নাটকীয়, অনেকটা হতাশা ও প্রতিবাদের সমন্বয়ে। তার প্রথম প্রজেক্ট ছিল মাসিক মুক্তমঞ্চ পত্রিকা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল টার্নিং পয়েন্ট, বিদেশের রাজনীতি করার ইচ্ছে না থাকলেও ওই ঘটনাটি বাঙালি জাতীয়তাবাদী অনেক তরুণের মতো তারও দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়। বিদেশে রাজনৈতিক সচেতনতা ও সেসময়ে কোনো প্রিন্ট মিডিয়া না থাকার শূন্যতায় অনেকটা একক প্রচেষ্টায় পত্রিকাটি বের করেন তিনি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অবস্থান তৈরি করাও ছিল তার অন্যতম উদ্দেশ্য। এ প্রসঙ্গে তার অনুপ্রেরণার কথা বলতে গিয়ে শামীম বলেন, ‘মিডিয়া বরাবরই টানত, তবে আবদুল গাফফার চৌধুরী ছিলেন অনুপ্রেরণা। কলাম ও কবিতা লিখতে গিয়েই বিদেশে বিভিন্ন মিডিয়ার সঙ্গে পরিচিত হই এবং একটা পর্যায়ে উদ্যমী অবস্থান তৈরি হয়।’
নোমান শামীমের ব্যবসা মূলত রিয়েল এস্টেট। এছাড়া স্টুডেন্ট কনসাল্টিংয়ের একটি অফিসও ঢাকায় আছে। তবে মিডিয়া ও রিয়েল এস্টেটই তাকে বেশি টানে, মূল আনন্দটা পান এই দুই ক্ষেত্রেই।
এই প্রজন্মের প্রতি তার পরামর্শ জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম বলেন, ‘চাকরি নয় চাকরিদাতা হও। এখন ফ্রিল্যান্সারের যুগ, এখন যুগ তারুণ্যের, প্রযুক্তির। একাগ্রতা, উদ্যম ও চারিত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করলে সফলতা ও আনন্দ, দুইটিই অবশ্যম্ভাবী’। নোমান শামীমের ভবিষ্যত্ স্বপ্ন সামাজিক ব্যবসাকে ঘিরে, যেখানে মূলত শ্রমিকরাই কারখানার মালিক। প্রিন্টিংয়েও তার আগ্রহ অনেক, ঢাকায় ভালো ডিজিটাল প্রিন্টিং ও নিজ এলাকায় একটি হাসপাতাল গড়ার ইচ্ছে রয়েছে। রাজনীতির একটি বড় অংশে তারুণ্যের পদচারণা, পলিসি মেকার ও আইন প্রণেতা হিসেবেও কাজ করার ইচ্ছে আছে। বিশ্বাস করেন ‘জীবনে পরাজয় বলে কিছু নেই, সবটাই অভিজ্ঞতা’ এবং এই মন্ত্রেই তিনি এগিয়ে চলছেন।
সূত্র:ittefaq

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *