Home / অর্থনীতি / নির্বাচন কমিশন অসহায়, দেশে-বিদেশে কখনোই এমনটা দেখিনি

নির্বাচন কমিশন অসহায়, দেশে-বিদেশে কখনোই এমনটা দেখিনি

আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপকে অর্থহীন মনে করেন কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।
সুজনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাজ দেখে মনে হচ্ছে, তারা অসহায়, অন্যদের মতামত নিয়ে তারা তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। দেশে-বিদেশে কখনোই এমনটা দেখিনি।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে করণীয়’ শিরোনামে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার নির্বাচনে ‘না’ ভোট রাখা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধান, সেনা মোতায়েন, সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি জানান।
পরে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের একটা সিকিউরিটি প্ল্যান নেওয়া জরুরি। আর ২০১৪ সালের পরিণাম যেন সামনে না হয়, আরেকটা বিতর্কিত নির্বাচন হলে আমরা চরম সমস্যায় পড়ব। সেটি হয়ত আমরা সামলাতে পারব না।’
সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন স্বাধীন সচিবালয় ও জনবলসহ অন্যান্য সুবিধায় দক্ষিণ এশিয়ায় ‘তাত্ত্বিকভাবে’ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী বলে মন্তব্য করে বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন কমিশন তো ফার্স্ট ক্লাস। তাহলে এত টেনশন কেন? আর শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন কোথায় হয়? নর্ডিক কান্ট্রিগুলোতে ৯৯ ভাগ হয়, আমেরিকাতেও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না’।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘যে কোনো দলীয় সরকারের অধীনেই পারফেক্ট নির্বাচন হতে পারে, তবে শতভাগ পারফেক্ট হবে সেটি বলছি না। সেজন্য সে রকম রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে’।
‘আমার তো মনে হয়, কেন রাজনীতি করলাম না, একজন এমপি ওয়ান টাইমে ৩০০-৫০০ কোটি টাকা বানায়, এত টাকা আসে কোথা থেকে?’
১৯৯০ সালের পর থেকে প্রশাসনে ‘চরমভাবে দলীয়করণ’ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা দরকার, সেটা জরুরি। এখন নির্বাচন কমিশন কীভাবে সেটি নিশ্চিত করবে তা দেখতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের উপর মানুষের কতটা আস্থা আছে সেটাও দেখতে হবে। নানা কর্মকাণ্ডে তাদের অবস্থানও প্রশ্নবিদ্ধ।’
নির্বাচন কমিশন আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে না পারলে বাংলাদেশে উত্তর কোরিয়ার মতো অবস্থা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বিচারপতি কাজী এবাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
উৎসঃ rtnn

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *