Home / রাজনীতি / ফরিদপুর-৪ আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী

ফরিদপুর-৪ আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: জাতীয়নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিকদলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রচারণা ওগণসংযোগে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসন সরগরম হয়ে উঠেছে।মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ব্যানার, সাইনবোর্ড,টাঙিয়ে নিজেদের জানান দিচ্ছে। বিভিন্নসামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতথেকে জনসাধারণের মন জয় করার চেষ্টাকরছেন। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা নিজ নিজদলের মনোনয়ন পেতে হাইকমান্ডের সাথেযোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। স্বাধীনতারপর থেকেই বলতে গেলে আসনটিআওয়ামী লীগের দখলে। বর্তমানেআসনটি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুররহমান চৌধুরী নিক্সনের দখলে। তাই এআসনটি নিয়ে বড় দুই রাজনৈতিক দলেরমধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইজ্জতেরপ্রশ্ন হিসেবে আওয়ামী লীগ আসনটিপুনরুদ্ধার করতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে। এসুযোগে বিএনপি নির্বাচনের হাওয়ানিজেদের পালে লাগানোর চেষ্টা করতেপারে। এ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোরএকাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে কয়েকজন নতুন মুখও রয়েছেন।মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের নামশোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন বাংলাদেশআওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যসাবেক এমপি কাজী জাফর উল্লাহ,বর্তমান সংসদ সদস্য মজিবুর রহমানচৌধুরী নিক্সন (স্বতন্ত্র বিদ্্েরাহীআওয়ামী লীগ) বিশিষ্ট শিল্পপতি সৈয়দমন্জুরুল হক, বিএনপি থেকে একাধিকপ্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেনÑজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজজহুরুল হক শাহজাদা মিয়া, উপজেলাবিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সহসভাপতি খন্দকার ইকবালহোসেন সেলিম, কেন্দ্রীয় জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের সভাপতি শাহ আলমরেজা, সাবেক জেলা বিএনপির সাংগঠনিকসম্পাদক ও রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কলেজের ভিপি অ্যাডভোকেট আলীআশরাফ নান্নু এবং জাসাস কেন্দ্রীয়কমিটির সহসভাপতি শাহরিয়া ইসলামশায়লা। ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসনউপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনটিরআয়তন ৬৪৯.৩৩ বর্গকিলোমিটার। গতনির্বাচনী তালিকা অনুযায়ী এলাকারভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪২ হাজার ৯০০জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা একলাখ ৭১ হাজার ৪০০ জন এবং মহিলাভোটার সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার ৪২৮জন। এলাকার সব শ্রেণীর জনগণের সাথেমিশে দীর্ঘদিনের অবহেলিত অঞ্চলকেউন্নত এলাকায় রূপান্তরিত করে ইতোমধ্যেনিক্সন অনেক মানুষের হদয়ে স্থান করেনিয়েছেন। তিনটি উপজেলায়ই তিনি প্রায়প্রতি সপ্তাহে সমানভাবে গণসংযোগচালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচিত হওয়ার পরথেকেই এলাকার প্রতিটি কর্মকাণ্ডে তারপদচারণা চোখে পড়ার মতো। অপর দিকেআওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজীজাফর উল্লাহ বরাবরের মতো নৌকাপ্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে আসছেন এটা প্রায়নিশ্চিত। এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদেরনিয়ে তিনি সমাবেশ, গণসংযোগ ওপথসভা করে নৌকা প্রতীকের জন্য আগামভোট প্রার্থনা করছেন এবং সেই সাথেহারানো আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য তিনিসরকারের সফলতা ও এলাকার উন্নয়নেরস¦প্ন দেখাচ্ছেন। এ দিকে বিএনপি থেকেকয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর নাম শোনাযাচ্ছে। তাদের মধ্যে খন্দকার ইকবালহোসেন সেলিম, শাহরিয়া ইসলাম শায়লাবিভিন্ন কর্মসূচিসহ ব্যাপক গণসংযোগচালিয়ে যাচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেবিশিষ্ট শিল্পপতি সৈয়দ মনজুরুল হক,বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীঅ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু, জেডএম দেলোয়ার হোসেন, শাহ আলম রেজাওসাধ্যমতো বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকরে নিজের অবস্থা জানান দিচ্ছেন। তবেমাঠের লড়াইয়ে মজিবর রহমান চৌধুরীনিক্সন, কাজী জাফরুল্লাহ, খন্দকার ইকবালহোসেন সেলিম, শাহরিয়া ইসলাম শায়লাপ্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। সদালাপীসেলিম খন্দকার গত উপজেলা নির্বাচনেপ্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তারও একটিগ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অপর দিকেশাহরিয়া ইসলাম শায়লা গত উপজেলানির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেপ্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোট পেয়েছিলেন।সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনিওমনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতিবিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানতারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।তবে সুধীমহলের ধারণা আগামী নির্বাচনেত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন সমীকরণও সৃষ্টি হতে পারে।

সূত্র :নয়াদিগন্ত

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *