Home / রাজনীতি / খুলনা-১ আসনে পঞ্চাননেরঅনিশ্চয়তা, এজাজের নিশ্চিত

খুলনা-১ আসনে পঞ্চাননেরঅনিশ্চয়তা, এজাজের নিশ্চিত

খুলনা আসনে পঞ্চাননেরঅনিশ্চয়তা, এজাজের নিশ্চিত

শেখ শামসুদ্দীন দোহা খুলনা ব্যুরো :এরশাদ শাসনামলের পর থেকে খুলনারছয় আসনের পাঁচটিতে ক্ষমতার হাতবদলহলেও দাকোপ-বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়েগঠিত খুলনা-১ আসনটি ঘুরেফিরেআওয়ামী লীগের কব্জায় রয়েছে। বিগতনির্বাচনগুলোতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটবেশি থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এআসন থেকে এক প্রকার হেসেখেলেইবৈতরণী পার হন। রিজার্ভ ভোট ব্যাংকেরনিশ্চয়তায় ১৯৯৬ সালে স্বয়ং দলীয় প্রধানশেখ হাসিনা একবার এই আসন থেকেপ্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন। তবে এবারের চিত্রআলাদা। নতুন ভোটার তালিকায় এবারভোটের অনুপাত চলে এসেছে সমানসমান। সে ক্ষেত্রে প্রার্থী মনোনয়নেক্ষমতাসীন দল যদি আগের অবস্থান থেকেসরে না আসে তবে তাদের জন্য বুমেরাংহতে পারে। এ দিকে নির্বাচন ঘনিয়েআসায় আধা ডজন মনোনয়নপ্রত্যাশীআগেভাগেই নেমে পড়েছেন। এ জন্য যাকরা দরকার তাতে পিছপা হচ্ছেন না কেউ।আওয়ামী লীগ থেকে কাকে প্রার্থী করা হবেতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তো আছেই সাথে যোগহয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী আতঙ্ক। গৃহবিবাদনা মিটলে শেষমেশ শেখ পরিবারের কেউপ্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবেনির্বাচন নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবংভোটারেরা নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারলেহিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। এ দিকেবিএনপির প্রার্থী হিসেবে বাড়তি সুবিধাপাচ্ছেন খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণসম্পাদক কুদরতে আমীর এজাজ খান।তিনি এই আসনের একমাত্র প্রার্থী এটা একপ্রকার নিশ্চিত বলা যায়।
সূত্র মতে, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগসভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ ১৯৯১ সালেএই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েবিরোধীদলীয় হুইপের দায়িত্ব পালনকরেন। প্রধানমন্ত্রীর সুনজরে থাকা হারুনব্যক্তিগতভাবে একজন পরিচ্ছন্নরাজনীতিক। তার সময়ে দাকোপ-বটিয়াঘাটায় যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। তবে১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকেজয়ী শেখ হাসিনা ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনেদলের বিদ্রোহী প্রার্থী পঞ্চানন বিশ্বাসেরকাছে হেরে যান হারুন। এরপর চলতে থাকেপঞ্চানন-ননী প্রতিযোগিতা। ২০০১ এরনির্বাচনে পঞ্চানন আওয়ামী লীগের টিকিটেখুলনা জেলায় একমাত্র সংসদ সদস্যনির্বাচিত হয়ে দলের মর্যাদা অক্ষুণœরাখেন। কিন্তু ২০০৮ সালে মনোনয়ন দেয়াহয় ননী গোপাল মণ্ডলকে। ২০১৪ সালেভোটারবিহীন নির্বাচনে পুনরায় সংসদসদস্য নির্বাচিত হন পঞ্চানন বিশ্বাস।এভাবে পঞ্চানন-ননীর পাল্টাপাল্টিতেনেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েন। এবারনির্বাচনে যাদের কথা বেশি শোনা যাচ্ছেতারা হলেনÑ বর্তমান এমপি পঞ্চাননবিশ্বাস, সাবেক এমপি ননী গোপাল মণ্ডল,দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুলহোসেন। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেনজেলা পরিষদ প্রশাসক ও খুলনা জেলাসভাপতি সাবেক এমপি শেখ হারুনুররশীদ, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীলশুভ রায়, বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যানআশরাফুল আলম।
সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এ আসনে একটি বিশেষ সম্প্রদায়েরভোটার বেশি হওয়ায় আওয়ামী লীগেরহাইকমান্ড পঞ্চানন অথবা ননী দু’জনেরকাউকে মনোনয়ন দিয়ে থাকেন। বর্তমানসংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস পরপরতিনবার এখান থেকে এমপি হয়েছেন।বয়সের দিক থেকে প্রবীণ এবংনেতাকর্মীদের সাথে তার ওঠাবসা কমেযাওয়ায় এখন নেতাকর্মীরা এখানে নতুনমুখ চাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে মনোনয়ন পেতেএবার মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন দাকোপউপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলাআওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ শেখআবুল হোসেন। দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানথাকায় তার একটা ব্যক্তিগত সুনামরয়েছে। তা ছাড়া এলাকার উন্নয়ন এবং দলগোছানোর ক্ষেত্রে তিনি নেতাকর্মীদেরআস্থা অর্জন করেছেন। জাতি, ধর্মনির্বিশেষে সব মহলের কাছে তার নামটিউঠে আসছে। দুই উপজেলাতেই তিনিবিরামহীন সময় দিচ্ছেন। পরিবেশঅনেকটা তার দিকেই গড়াচ্ছে বলে মনেহচ্ছে। সাম্প্রদায়িক হিসেবে পরিচিতসাবেক এমপি ননী গোপাল মণ্ডলওশক্তভাবে মাঠে নেমেছেন। ২০১৪ সালেরভোটারবিহীন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ননা পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনকরে দল থেকে বহিষ্কার

…সূত্র : nayadiganta

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *