Home / খেলাধুলা / ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের 

ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের 

সংগ্রাম ডেস্ক  : টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। গতকাল টেস্টের চতুর্থ দিনেই ২০ রানের অসাধারণ এক জয় পায় বাংলাদেশ। টেস্টে বাংলাদেশের এটা দশম জয়। এর আগে জিম্বাবুয়ে,ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলংকা আর ইংলান্ডের বিপক্ষে টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে ১৭ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য। গতকাল বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড নৈপুন্যেই ঢাকা টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারায় টাইগাররা। ম্যাচে ১০ উইকেট ও ৮৯ রান করার সুবাদে সেরা ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে জয় নিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্ট জিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের সুযোগও আছে বাংলাদেশের সামনে। 

দীর্ঘ ১১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। আর সুযোগটা ভালোই কাজে লাগিয়েছে টাইগাররা। ২০১৫ সালে এই টেস্ট খেলার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে আসতে রাজি হয়নি। সেই সিরিজ হয় ২০১৭ সালে। ফলে ঢাকা টেস্ট শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার ছিল রোমাঞ্চিত। এই রোমাঞ্চই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় এনে দিয়ে ক্রিকেটে আরেকটি ইতিহাস গড়ে টাইগাররা। গতকাল তাইজুল ইসলামের বল অফ স্টাম্পে পড়ে বাঁক খেয়ে হ্যাজেলউডের প্যাডে আঘাত করলেই জোড়ালো আবেদন করেন মুশফিক, তাইজুল, সৌম্য, সাকিবরা। আঙুল তুলতে ভুল করেননি আম্পায়ার নাইজেল লং। আর মুহূর্তেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়ের উল্লাসে মেতে উঠে পুরো বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে ১০১ টেস্টে এটি বাংলাদেশের দশম জয়। এর আগে জিম্বাবুয়েকে পাঁচবার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুবার, শ্রীলংকা ও ইংল্যান্ডকে একবার করে হারায় বাংলাদেশ। মিরপুরে প্রথম টেস্টে জয়ের আশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দু-দলই। তবে শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশই। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছিল ২৬০ রান। জবাবে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ব্যাট করতে নেমে ২১৭ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশ লিড পায় ৪৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২২১ রান করে অস্ট্রেলিয়ার সামনে টার্গেট দেয় ২৬৫ রানে। জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে গতকাল অস্ট্রেলিয়া ২৪৪ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশ জয় পায় ২০ রানে।

গতকাল টেস্টে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৮ উইকেটে ১৫৬ রান। আর বাংলাদেশের দরকার ছিল ৮ উইকেট। হাতে ছিল দুই দিন। আগের দিনে ২ উইকেটে ১০৯ রান নিয়ে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার -স্মিথ জুটি ব্যাটিংয়ে থাকায় কিছুটা এগিয়ে ছিল সফরকাররীরাই। তবে বাংলাদেশের সামনে একটাই সুযোগ ছিল বোলিংয়ে দারুণ কিছু করার। আর শেষ পর্যন্ত সেটাই করতে পেরেছে বাংলাদেশের স্পিনাররা। বিশেষ করে সাকিব আল হাসান একাই ধসে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। ফলে টাইগারদের কাছে হার মানতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। গতকাল প্রথম থেকেই নিজেদের লক্ষ্য পূরণে দিনের শুরু থেকেই সর্তক ছিল অস্ট্রেলিয়া। রানের চাকা সচল রেখেছিলেন আগের দিন অস্ট্রেলিয়ার দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ওয়ার্নার ৭৫ রান নিয়ে শুরু করে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৯তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। উপমহাদেশে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত সেঞ্চুরি করেন তিনি। তার সেঞ্চুরি শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিতে পারেনি দলকে। তবে ২ উইকেটে ১৫৮ রান তুলে ম্যাচ জয়ের পথ অনেকাংশেই পরিস্কার করেছিলো অস্ট্রেলিয়া। এমন সময় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক-থ্রু এনে দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ওয়ার্নারকে লেগ বিফোর ফাঁেদ ফেলেন সাকিব। রিভিউ নিয়েও, নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি ওয়ার্নার। ১৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ১১২ রান করেন ওয়ার্নার। তার বিদায়ে স্মিথের সাথে গড়ে উঠা ১৩০ রানের জুটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উপমহাদেশের মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে ওয়ার্নার ও স্মিথের সর্বোচ্চ রানের জুটি এটি। ওয়ার্নারকে ফেরানোর পরই অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরার সাহস পেয়ে যান সাকিব। আর স্মিথকেও বিদায় করেন সাকিব। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেয়ার আগে ৩টি চারে ৯৯ বলে ৩৭ রান করেন স্মিথ। সাকিবের পর আরেক বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামও কম যাননি। পিটার হ্যান্সকম্বকে আউট করেন তাইজুল। স্লিপে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন সৌম্য। ১৫ রান করেন হ্যান্ডসকম্ব। হ্যান্ডসকম্বের বিদায়ের পর আবার সাকিবের আক্রমন। এবার অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন সাকিব। এবার তার শিকার অসি উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড। মাত্র ৪ রান করে ফিরেন ওয়েড। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে বাংলাদেশকে আরও একটি সাফল্য এনে দেন তাইজুল। ইনিংসের ৫৫তম ওভারে অ্যাস্টন আগারকে শিকার করেন তাইজুল। ফলে ৩ উইকেটে ১৫৮ থেকে ৭ উইকেটে ১৯৫ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া। তাই জয় থেকে ৩ উইকেট দূরে দাড়িয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে জয় থেকে ৩ উইকেট দূরে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার শেষ ভরসা হিসেবে উইকেটে টিকে ছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্রথম ডেলিভারিতেই ম্যাক্সওয়েল ‘বাঁধা’ দূর করে ফেলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। ফলে এই ইনিংসেও ৫ উইকেট পূর্ণ হয় তার। প্রথম ইনিংসেও ৫ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত ম্যাচে ১০ উইকেট নিলেন সাকিব। ১৯৯ রানে অষ্টম উইকেট হারানোর পর, লড়াই করার মানসিকতা দেখান দুই টেল-এন্ডার ব্যাটসম্যান প্যাট কামিন্স ও নাথান লিঁও। তবে উইকেট নেয়ার লক্ষ্য থেকে পিছপা হয়নি বাংলাদেশের সাকিব-তাইজুল-মিরাজ। অবশেষে মিরাজ সেই লক্ষ্য পূরণ করেন। লিঁও’কে ১২ রানে থামিয়ে দেন মিরাজ। অবশ্য লিঁওকে ফেরাতে মূখ্য ভূমিকা রাখেন সৌম্য। দ্বিতীয়বারের মত এই ইনিংসে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন সৌম্য। তবে শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলারদের উপর কিছুটা চড়াও হয়েছিলেন কামিন্স। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় অস্ট্রেলিয়ার শেষ আশা বাঁিচয়ে রেখেছিলেন তিনি। এতে কিছুটা হলে শংকিত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ শিবির। অবশেষে ৭১তম ওভারে সব টেনশন শেষ হয় বাংলাদেশের। ঐ ওভারের পঞ্চম বলে জশ হ্যাজেলউডকে লেগ বিফোর করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন তাইজুল। ফলে ২৪৪ রানেই অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। হ্যাজেলউড শুন্য রানে ফিরলেও, ৫৫ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন কামিন্স। বাংলাদেশের সাকিব ৮৫ রানে ৫ উইকেট, তাইজুল ৬০ রানে ৩ উইকেট ও মিরাজ ৮০ রানে ২ উইকেট নেন।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *