Home / রাজনীতি / বিএনপির খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের কে ?

বিএনপির খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের কে ?

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আসন ফেনী-১। পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া- এ তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন। আগামী নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নিলে খালেদা জিয়া হবেন এ আসনের প্রার্থী। ১৯৯১ সাল থেকে যতবারই খালেদা জিয়া নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন ভোটাররা তাকে বিমুখ করেননি। বিপুল ভোটের ব্যবধানে তাকে নির্বাচিত করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি এ আসনটি ছেড়ে দেন। তখন উপনির্বাচনে তার ভাই সাঈদ এস্কান্দার নির্বাচিত হন। এখন সাঈদ এস্কান্দারও প্রয়াত। নির্বাচন এলে এখানকার বিএনপির নেতা-কর্মী ও ভোটাররা খালেদা জিয়াকে নিয়েই মত্ত থাকেন। বিএনপি সরকারে গেলে তাদের আসনের এমপি হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী এটা তাদের গর্বের বিষয়।
আগামী নির্বাচনের এখনও অনেক সময় বাকি। তারপরও আওয়ামী লীগ-বিএনপি, জাসদ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন পুরোদমে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পদচারণার ঢেউ শুধু শহর নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামের হাট-বাজারেও লেগেছে। বিএনপির প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়া শতভাগ নিশ্চিত হলেও নির্ধারণ হয়নি আওয়ামী লীগ থেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কে হচ্ছেন? সম্প্রতি বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, দান-খয়রাত এবং কৌশলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ও গণসংযোগ করে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন। এতে করে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কদর বেড়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ আসনে ১৯৯১ সালের ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ২০০৮-এর ৯ম জাতীয় সংসদ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। ২০০১ সালে তার ছেড়ে দেয়া আসনে উপ-নির্বাচনে খালেদা জিয়ার ভাই প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দার বিজয়ী হন। আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে একক কেউ ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন করেনি। আগামী একাদশ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করছে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মনোনয়ন। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এ আসনে দলীয় প্রার্থী চান। মহাজোট থেকে অন্য দলের প্রার্থী দিলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ওই প্রার্থীর হয়ে ভোটযুদ্ধে নামবেন না বলে তারা বিভিন্ন সভা সমাবেশে স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতারা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আসনে বিজয়ী হতে হলে তৃণমূল থেকে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় প্রার্থী দিতে হবে। যদিও বর্তমানে ফেনী-১ আসনের মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি রয়েছেন। তিনি জোটের মনোনয়ন পেলে আবারও এ আসনে প্রার্থী হবেন বলে তার ঘনিষ্ঠজন সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, বর্তমান এমপি তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেন না। ফলে জাসদ নেত্রীর বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা অংশগ্রহণ করেন না। অতি সম্প্রতি ছাগলনাইয়া উপজেলায় সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা শিরীন আখতারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।

বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ফেনী আওয়ামী লীগের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক ’৯৬-এর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আলাউদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী নাসিম পর্দার অন্তরালে থেকে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্ব, স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচন এবং কেন্দ্র ও জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার প্রভাব রয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীরা তাকে প্রার্থী হিসেবে চাইলেও তিনি সব সময় পর্দার অন্তরালেই থাকতে চান। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে এক সময়ের বিএনপি ও জাতীয় পার্টি (জাপা) মন্ত্রী লে. কর্নেল জাফর ইমাম বীরবিক্রম (অব.) ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপি, পরে জাপা থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত এ আসনের এমপি-মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ সালে জাপা প্রার্থী এবং ২০০১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে এ আসন থেকে নির্বাচন করে বেগম জিয়ার সঙ্গে হেরে যান। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে হয়তো আবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে পারেন।
এছাড়াও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যারা আলোচনায় রয়েছেন তারা হচ্ছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার মজুমদার তপন, ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল। এদিকে জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগকৃত কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমানে ট্রুথ পার্টির কেন্দ্রীয় মহাসচিব এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী আগামী নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামবেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানিয়েছেন। এছাড়াও জাতীয় পার্টি থেকে দলীয় প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা নাজমা আক্তার, ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর একেএম সামছুদ্দিন আহাম্মদ ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা দিদারুল আলম মজুমদারের নামও শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আলহাজ এমএ কাসেম, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এর সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুন নেওয়াজ সেলিম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্যাহর নাম শোনা গেলেও তারা নির্বাচন করবেন এমনটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবদীন (ভিপি জয়নাল) জানান, ‘বেগম খালেদা জিয়ার নিজ আসন ফেনী-১। এটি খালেদা জিয়ার পারিবারিক সিট। খালেদা জিয়ার রাজনীতির শুরু থেকেই এ সিটে নির্বাচন করছেন। তিনি আমাদের গর্বের ব্যাপার। তার জীবদ্দশায় এ আসনে অন্য কোনো প্রার্থী চিন্তাও করা যায় না। তার পক্ষে দলীয় সব নেতা-কর্মী সব সময়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে অতীতের মতো তিনি এ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।’ ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল জানান, ‘ফেনীর আওয়ামী লীগের অভিভাবক আলাউদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী নাসিম ও আধুনিক ফেনীর রূপকার নিজাম উদ্দিন হাজারীর নেতৃত্বে যাকে ফেনী-১ আসনে মনোনয়ন দেয়া হবে তিনি তার পক্ষে কাজ করবেন। সে ক্ষেত্রে আলাউদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী নাসিম, খাইরুল বাশার মজুমদার তপনের পর তিনি নিজেকে প্রার্থী হিসেবে যোগ্য মনে করেন। তবে এ আসনে যদি মহাজোট থেকেও প্রার্থী দেয়া হয় তাহলেও দলীয় নির্দেশে তার পক্ষে নির্বাচনে কাজ চালিয়ে যাবেন।’
ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে দল যাকে মনোনয়ন দিবে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে কাজ করে প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন। এ ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
উৎসঃ মানবজমিন

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *