Home / রাজনীতি / সিলেট-৬ আসনে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন আ’লীগ জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থী

সিলেট-৬ আসনে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন আ’লীগ জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ, পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক-টুইটার ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার বিষয়ে জানান দিচ্ছেন। সংসদীয় আসন সিলেট-৬ আসনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোট ও বিএনপি সমর্থিত ২০ দলীয় জোট মিলে প্রধান দু’টি জোটের পক্ষ থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলের হাইকমান্ডে তদবির-লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

নির্বাচনে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে চারটি রাজনৈতিক দলই শক্ত প্রার্থী দেবে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিপক্ষে লড়তে ইতোমধ্যেই মাঠ গরম করে তুলেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির নেতারা। দুই উপজেলা তারা চষে বেড়াচ্ছেন। নিজেদের দখলে মাঠ রাখতে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন তারা। সভা সমাবেশ, উঠোন বৈঠক, বিয়ে-শাদি, ধর্মীয়, সামাজিক অনুষ্ঠান সবখানেই সরব উপস্থিতি তাদের। সব কয়টি রাজনৈতিক দলেই রয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে অনেকেই শুধু প্রার্থী তালিকায় নাম প্রচারের জন্য নানা ফন্দি-ফিকিরে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগ থেকে নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিএনপি থেকে অ্যাডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদ, জামায়াত থেকে মাওলানা হাবিবুর রহমান, জাতীয় পার্টি থেকে সেলিম উদ্দিন এমপি, জাসদ থেকে লোকমান আহমদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া এসব রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা মনোনয়ন চাইতে পারেন।
সরেজমিন জানা গেছে, বিগত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর পদে আসীন এই নেতাকে নিয়ে খোদ তার দলের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। বিগত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডে নুরুল ইসলাম নাহিদের বিপক্ষে প্রার্থিতা দাবি করেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব, লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফসার খান সাদেক। এবার তাদের তালিকায় যুক্ত হবে আরেকটি নাম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাসিব জোয়ার্দার। গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু, যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শফিক উদ্দিনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় এই আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দুই যুগ আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সাবেক জেলা সভাপতি মরহুম লুৎফুর রহমান। এরপর বিভিন্ন জোটের শরিকদের জন্য বিএনপি এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছে। তবে এবার বিএনপি নেতারা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবার তারা নির্বাচন করতে পারবেন। এর কারণ হিসেবে তারা দেখছেন দুই উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান পদে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের যোগফল ছিল সবার ওপরে।
গত কয়েক বছর ধরে এই আসনে দলের মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বিশিষ্ট লেখক অ্যাডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদ। দুই উপজেলার সবখানেই তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। বিগত উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে তার প্রচারণার বিষয়টি ছিল সবার মুখে মুখে।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম দলের সভাপতি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এই আসনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করছেন মিডিয়ায়। সম্প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে কয়েকটি ফেস্টুন টাঙিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি সায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সল আহমদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা চিত্রনায়ক হেলাল খান।
২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিলেট দক্ষিণ জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। নির্বাচনে পরাজিত হলেও বিগত দিনে মাঠ ছাড়েননি তিনি। দলের সভা-সমাবেশ ছাড়াও ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন জোটগত নির্বাচন হোক আর দলীয় হোক মাওলানা হাবিবুর রহমানই হবেন এই আসনের আগামী দিনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। যদি কোনো করণবশত মাওলানা হাবিবুর রহমান নির্বাচনে প্রার্থী না হন তাহলে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সেলিম উদ্দিন এই আসনে প্রার্থী হবেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় দলীয় নেতাকর্মীরা এ ধরনের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জাতীয় পার্টি থেকে বিগত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসন থেকে সংসদ সদস্য হন বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দা এরশাদের উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন। এই নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চেয়ে কাজ করে আসছিলেন। দলের এইচ এম এরশাদ গোলাপগঞ্জে এক পথসভায় তাকে সিলেট-৬ আসনে প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করে দিয়ে ছিলেন। কিন্তু সিলেট-৫ আসন থেকে দলীয় টিকিটে এমপি হলেও বিগত দিনগুলোতে তিনি ছাড়েননি সিলেট-৬ আসনের এমপি হওয়ার আশা। তিনি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের পাশাপাশি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে দলীয় তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। আগামী নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে তিনি জাপার মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। এ ছাড়া এই আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চাইতে পারেন সাবেক এমপি শরফ উদ্দিন খছরু, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ টি ইউ তাজ রহমান।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মহাজোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) থেকে এবার মনোনয়ন চাইতে পারেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা সভাপতি লোকমান আহমদ। এ ছাড়া জাসদের আম্বিয়া গ্রুপ থেকে মনোনয়ন চাইবেন যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক সভাপতি শামীম আহমদ।
তা ছাড়া খেলাফত মজলিস এবং জমিয়ত থেকে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অনেকের। তবে শেষমেশ আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নুরুল ইসলাম নাহিদ, মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং অ্যাডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে সবখানে।

সূত্র:dailynayadiganta

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *