Home / সম্পাদকীয় বিভাগ / বন্যার্তদের জন্য সিডনিতে একখন্ড বাংলাদেশ

বন্যার্তদের জন্য সিডনিতে একখন্ড বাংলাদেশ

জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ, এটা প্রমান করতেই যেন ‘একখন্ড বাংলাদেশ’ হয়েছিলো সিডনি। গত ১৭ই সেপ্টেম্বর সিডনির উপকন্ঠে রকডেলস্থ রেড রোজ ফাংশন সেন্টারে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মিলন মেলায় হৃদয় ও হাত খুলে বাংলাদেশের বন্যার্তদের জন্য অর্থ উঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ডিজাস্টার রিলিফ কমিটির সমন্বয়ে সিডনির অন্তত ২৫টি সংগঠন অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক তৎপরতায় অংশগ্রন করে। দেশের প্রয়োজনে এত বড় সাংগঠনিক তৎপরতা অস্ট্রেলিয়ার আমাদের প্রবাস জীবনে প্রথম না হলেও সর্ব বৃহৎ এবং বলা যায় সবার সহযোগিতায় অত্যন্ত সফল। মুলত এস এম আমিনুল ইসলাম রুবেলের আহবানেই সবাই জড়িয়ে যায় নাড়ির টানে, যার সফল সমাপ্তি টানে প্রবাসিদের অন্যতম সংগঠন ডিজাস্টার রিলিফ কমিটি। ৩৫টি টেবিলের সব ক’টি টেবিলই বিক্রি হয়ে যায় অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগেই। প্রায় ৪০০ প্রবাসী, ২৫টির মতো সংগঠনের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকরা তাঁদের সদস্য ও পরিবারদের নিয়ে প্রোগ্রামে যোগ দেন স্বতঃফুর্তভাবে। সাথে যোগ দেন সিডনির প্রখ্যাত সব শিল্পীরা, তাঁদের নেতৃত্ব দেন সিরাজুস সালেকীন, এহসান আহমেদ, অমিয়া মতিন, সাথে যোগ দেন প্রায় ৩০জন শিল্পীর বহর। শুধূ গান শোনানোই না, সাথে হাত খুলে দানও করেন শিল্পীরা। আর এসেছিলেন প্রবাসীরা, দলে বলে, একা কিংবা পরিবার নিয়ে, কেউ এসেছিলেন সন্তানের হাত ধরে, দূরে ফেলে আসা এক মায়ের কষ্টের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করতে।আয়োজনটি ছিলো নিপাট, পরিমার্জিত ও বাহুল্যতা বর্জিত। কেউ বক্তব্য রাখতে চাননি, কেউ সামনেও বসতে চাননি। সরবে এসেছেন, নীরবে দান করেছেন। শিল্পীরা জনপ্রিয় সব গান গেয়ে মাতিয়েছেন হল ভর্তি দর্শকের মন, যন্ত্র শিল্পীরা সারাটি সময় একাগ্র থেকেছেন তাঁদের পরিবেশনায়। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, লেবার পার্টি – কে আসেনি, হিন্দু-মুসলিমদের সংগঠন, বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এল্যামনাই, এলাকা ভিক্তিক সংগঠন, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন এ্যাসোসিয়েশন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, সবাই এসেছেন। এতো বড় সাংগঠনিক মিলনমেলা যে আর হয়নি এই সিডনির বুকে। ডঃ আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে এসেছে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ, মনিরুল হক জর্জ নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির, একে এম শফিক এসেছেন নিউ সাউথ ওয়েলস বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন নিয়ে, এমনি করে প্রতীতি, একুশে একাডেমী, পুজা এ্যাসোসিয়েশন, অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার, বিভিন্ন মসজিদ কমিটি, কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে লেবার পার্টি, জালালাবাদ এ্যাসোসিয়েশন, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ প্রেস এন্ড মিডিয়া ক্লাব, অসড়েলিয়া বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, ভিকারুন্নেচ্ছা এলামনাই, ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই, এক্স-ক্যাডেট গ্রুপ, মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন, রে হোয়াইট রিয়েল এস্টেট, লিসেন ফর, স্টাডি নেট, কৃষিবিদরা, কোয়ান্টাস গ্রুপ, বাজ প্রোডাকশন, ইস্টার্ন সাবার্ব ইসলামিক প্রোগ্রাম, সেন্ট জর্জ গ্রুপ, গ্রামীন সাপোর্ট গ্রুপ, ইস্টার্ন সিডনি ইসলামিক সার্ভিস সহ সিডনির জুড়ে থাকা প্রবাসী শিল্পীরা ও সাধারন মানুষ।হাটবাজার রেস্টুরেন্ট ৫টি ১০০ ডলারের ডিনার টিকেট ফ্রি করে দেয়, যা নিলামে উঠান আমিনুল ইসলাম রুবেল এবং মুহুর্তের মধ্যে তা বিক্রি হয়ে যায়। সিডনির সবার পক্ষ্য থেকে বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্ত। এসময় গামা আব্দুল কাদির, নেহাল লেয়ামুল বারী, মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহমান বেলাল, মুনির আহমেদ, মেরাজ হোসেইন, মোফাজ্জল ভুইয়া, মফিজুল হক, ডঃ আব্দুর রাজ্জাক, জামিল হোসেইন, ডাঃ আব্দুল ওয়াহাব, মোবারক হোসেন, মুকিতুর রহমান, আলাউদ্দীন অলোক, ডঃ কাউয়ুম পারভেজ, এলিজা আজাদ, কাজী সিমি, শাওন অরিজিত, হায়াত মাহমুদ, আবুল কালাম আজাদ খোকন, চঞ্চল চৌধুরী, নির্মল্য তালুকদার, অপু সারোয়ার, আসাওয়াদুল বাবু সহ সিডনির গন্যমান্য প্রবাসীরা বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি স্বাগত বক্তব্য দিয়ে শুরু করেন আফসার আহমেদ,ডিনারের আগে সংগঠনের কার্য্যক্রম ও বন্যার্তদের জন্য সহায়তার বিষয়াদি বিস্তরিত ব্যাখ্যা করেন সভাপতি ডঃ মাকসুদুল বারী। ডিসাস্টার রিলিফ কমিটির সাথে অতোপ্রতোভাবে সহযোগিতা করেছেন সময় টিভি’র আমিনুল ইসলাম রুবেল, মুক্তমঞ্চ সম্পাদক নোমান শামীম, ডিজাস্টার রিলিফ কমিটির ডঃ মাসুদ পারভেজ, বিদেশ বাংলা টেলিভিশনের রহমতুল্লাহ, নিউ সাউথ ওয়েলস এসোসিয়েশন-এর সভাপতি একেএম শফিক, এহসান আহমেদ, মহিউদ্দীন মহী, চমন রহমানসহ একঝাক তারুন্য। প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী সিরাজুস সালেকীন, এহসান আহমেদ ও আব্দুল মতিনের সমন্বয়ে শিল্পীদের বিশাল দল যোগ দেয় এই সন্ধ্যায়। গান শুনিয়ে মাতিয়ে রাখেন রোকসানা বেগম, আনিসুর রহমান, মিজানুর রহমান মিজান, নাবিলা, মিঠু, অমিয়া মতিন, আবৃত্তি করেন লরেন্স ব্যারেল, যন্ত্র শিল্পী ছিলেন তাইফ রহমান, আলী কাওসার, রাকিব ফেরদৌস।
খাবারে বিরাট অংকের ছাড় দিয়ে একটি বড় অংশ দান করে রেড রোজ ফাংশন সেন্টার সবার হাততালি কুড়ায়। এছাড়া প্রিন্টিং-এর যাবতীয় কাজ নিজ খরচে কেরে দেয় অ১ প্রিন্টিং ও তার টিম, লিসেন ফর তাঁদের টিকেটও চ্যারিটি করে আর লাকেম্বাস্থ রে হোয়াইট বড়ো অংকের ইন্সেনটিভ ঘোষণা করে বন্যার্তদের সহযোগিতায়। বড্ডো ভালোলাগায় কেটেছে সময়টা, বললেন অনেকেই। দেশের জন্য কিছু করতে পারার একটা দারুন অনুভুতি নিয়ে সবাই গাড়িতে উঠেন, হয়ত চোখের কোনে জমে উঠা পানি সামলে নিজেকেই বলেন, আমরা আছি মা, তোমার কোটি সন্তান এই বিদেশ বিভূঁইয়ে, কোনো ভয় নেই তোমার।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *