Home / বাংলাদেশ / ঢাকা বিভাগ / মুন্সীগঞ্জে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে জে এসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

মুন্সীগঞ্জে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে জে এসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

মোঃ রুবেল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে অনিশ্চিত হয়ে পরেছে জেএসসি পরীক্ষার্থী তানজিলের ভবিষ্যৎ। সরকার ২০১০ সালে ৯ই আগস্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীদের শারীরিক শাস্তি প্রদান বন্ধকরন প্রসঙ্গে নীতিমালা প্রনয়ণ করলে ও কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই ঘটে গেলো এমন ঘটনা, জেলার সিরাজদিখান উপজেলার খাসমহল বালুরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আলী আশরাফের হাতে।সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী হাবিব বেপারীর ছেলে তানজিল হোসেন। সে সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের, খাসমহল বালুরচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি শিক্ষা বর্ষের আগামী ১ ই নভেম্বর জেএসসি (অষ্টম শ্রেণী) পরীক্ষার দেয়ারকথা। অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায় গত ২৪ শে অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আলী আশরাফ প্রতিদিনের মতো গনিত ক্লাশ নিচ্ছিলেন। ক্লাশ চলাকালে একটি অংক খাতায় উঠানো নিয়ে স্কুলের ছাত্র তানজিলকে জিজ্ঞাসা করেন। এতে তানজিল অংকটি তার স্যারকে দেখায়। এতে স্যার ক্ষিপ্ত হয়ে বেত দিয়ে ছাত্র তানজিলকে বেধড়ক পেটায়। এ ঘটনায় তানজিল শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধানশিক্ষক মো. আলী আশরাফ তানজিলকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার নায়ক স্কুল শিক্ষক মো. আলী আশরাফ প্রথমে সাংবাদিকদের ক্যামেরা এড়িয়ে গেলেও পরে, ঘটনাটি একটি বিছিন্ন ঘটনা বলে দাবি করেন তিনি।পরে ঘটনার বিষয় টি খবর পেয়ে তানজিলের স্বজন ও
সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরিবিভাগে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। তানজিল বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যথা-যন্ত্রণায় ছটফট করছে।এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আলী আশরাফের দৃষ্টান্ত মূলক বিচার দাবি করেছে আহত শিক্ষার্থীর আত্মীয়-স্বজন ও সহপাঠিরা। তবে এ বিষয়ে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকমো. আলী আশরাফের বিরুদ্ধে নানান তথ্য। অনুসন্ধানে জানা যায় শিক্ষক মো. আলী আশরাফ এরআগে ২০০৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাসারিতার অভিযোগে শিক্ষক আলী আশরাফ ৪ বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পরে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারনে গত ২ বছর ধরে তিনি পুনরায় ওই বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু মোতাহার মো. নিয়ামুল বাক্বী এ প্রতিবেদক কে জানান, খবর পেয়ে তার ছাত্রকে দেখতে গিয়েছেন এবং ছাত্রকে বেত্রাঘাত করার বিষয়টি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্ত নেবেন।আহত স্কুল ছাত্র তানজিল, তার মা তাসলিমা বেগম, চাচা আলাউদ্দিন বেপারী ও সহপাঠীরা জানালেন, তানজিলকে বেত্রাঘাত করে রক্তাক্ত আহত করে রাস্তায় ফেলে রাখে। অংক পারার পরও খাতায় অংক তোলা নিয়ে স্যার তাকে বেত্রাঘাত করে। হাতে-পায়ে ধরার পরও পেটাতে থাকে তানজিলকে।এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক, ওইদিনের ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে জানালে ও এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী তানজিল হোসেনের (১৫) পরীক্ষা দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ব্যথা-যন্ত্রণায় ছটফট করছে পরীক্ষার্থী তানজিল।এই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে যদি তাকে দোষ প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইন গত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা জানালেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল কায়ুম খান।
এই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন গত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে একই কথা জানালেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানবীর মোহাম্মদ আজিম।সব শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষকের হাতে জেএসসি পরীক্ষাথীকে বেত্রাঘাত করার অভিযোগের বিষটি আমলে নিয়ে এর সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন সরকার এমটাই প্রত্যাশা সকলের।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *