Home / বাংলাদেশ / অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছেঐতিহ্যবাহী রাজা শ্রীনাথ রায়ের হাসপাতাল

অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছেঐতিহ্যবাহী রাজা শ্রীনাথ রায়ের হাসপাতাল

মোঃ সুমন হোসেন শাওন, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ অযত্ন অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বিক্রপুরের (মুন্সীগঞ্জ) শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকূলের রাজাশ্রীনাথ রায়ের ডিসপেনসারী ও হাসপাতাল। অনুসন্ধানে জানা-যায়, ভাগ্যকুলেরজমিদার প্রথম চাদের তিন পুত্র শ্রীনাথ, সীতানাথ ও জামকী নাথ। শ্রীনাথ ও জমকীনাথব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে “রাজা” উপাধি ও শ্রীনাথের ছেলে প্রথম নাথ “কুমার”উপাধি লাভ করেছিলেন। ১৮৭৭ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়াকে যখন “ভারত সম্ম্রাঞ্জী”উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সেই সময় নানা বিধ জনকল্যান মূলক কাজ ও সংস্কৃতচর্চ্চার পৃষ্ঠ পোষকতার জন্য শ্রীনাথকে একটি বিশেষ মান পত্র দেওয়া হয়েছিল। সংস্কৃত সকল পন্ডিতদের একত্রিত করার উদ্দ্যোশে শ্রীনাথ রায় ঢাকায় সারস্বত সমাজপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। শ্রীনাথ রায় দীর্ঘ দিন অবৈতনিক ম্যাজিষ্টেটের হিসেবেওকাজ করেছিলেন। সৎ ও পরোপকার মূলক কাজ কর্মের জন্য ১৮৯১ সালে তিনি “রাজা”উপাধিতে সম্মানিত হন। এছারা জনহতিকরন কাজ কর্মের জন্য ১৯১১ সালে দিল্লিরদরবারে রাজা শ্রীনাথ রায়কে একটি স্বর্ন পদকে ভূষিত করা হয়। ১৯১৪ সালে যুদ্ধেরজন্য সৈন্য সংগ্রহের কাজে সহায়তা করার জন্য ইংরেজ সরকার তাকে “রিংক্রুটিং”ব্যাজ প্রদান করেন। বিক্রমপুরের রাম বাড়িতে অতি প্রাচীন সু-উচ্চ একটি মঠ ছিল।মঠটি প্রায় ভেঙ্গে পরেছিল। শ্রীনাথ রায় বহু অর্থ ব্যায় করে মঠটি সংস্কার করলেও১৯২৩ সালে এই বিখ্যাত মঠটি পদ্মার ভাঙ্গনে হারিয়ে যায়। দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে সহায়তা করতে শ্রীনাথ রায় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ও দেশ প্রিয় যতীন্দ্র মোহনসেন গুপ্তকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। মহাতœা গান্ধী ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন এর মতজাতীয় নেতাদের পূর্ববঙ্গ অঞ্চলে নদী পথে যাতায়াতের সুবিধার্থে শ্রীনাথ রায় তারকোম্পানীর স্টিমার ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। ১৯০৭ সালে এক অসুখে শ্রীনাথ রায়তার দৃষ্টি শক্তি হারান। ১৯১৯ সালে স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি নিঃসঙ্গ হয়ে পরেন। এর পরকলেরা রোগে তার এক পুত্র ও আদরের কন্যা রাইবিনোদনীরও মৃত্যু হয়। ভাগ্যকুলে নিজগৃহে ১৯২৪ সালে ৮৪ বছর বয়সে কুন্ডু পরিবারের এই মহান পুরুষ শ্রীনাথেরদেহাবাস ঘটে। ভাগ্যকুলের রায় পরিবারটি বিক্রমপুরে জনহিতকর কাজ কর্মের পাশা-পাশি বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। এগুলোর মধ্যে ভাগ্রকুলের হরেন্দ্র লালউচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীনগর বাজারে রাজা শ্রীনাথ চেরিটেবল ডিসপেনসারী এন্ডহসপিটাল, সিরাজদিখান উপজেলার শেখর নগরে রাজা শ্রীনাথ ইনষ্টিটিউট এন্ড হাইস্কুল, মুন্সীগঞ্জ সদরের রাজা শ্রীনাথ ক্লাব উল্লেখ যোগ্য। শ্রীনাথ রায়ের পুত্র কুমারবাহাদুর খ্যাত কুমার প্রমথনাথ রায় তার স্বর্গীয় পিতা শ্রীনাথ রায়ের মহানস্মৃতিকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য বর্তমান শ্রীনগর বাজারে জমিদার লালাকৃত্তি নারায়ণবসুর নির্মিত ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী অনন্তদেব মন্দিরের পূর্ব পাশের্^ ১৯৩৯সালের ২৯ জুন স্থাপন করেন (জঅঔঅ ঝজঊঊঘঅঞঐ ঈঐঅজওঞঅইখঊ উওঝচঊঘঝঅজণ) রাজাশ্রীনাথ চেরিটেবল ডিসপেনসারী এন্ড হাসপাতাল। এই হাসপাতালেই কলকাতারবিখ্যাত কারমাইকেল হাসপাতালের দু’জন খ্যাতনামা ডাক্তার মন্মথনাথ নন্দী সংক্ষেপেএম এন নন্দী ও মনীন্দ্র কৃষ্ণ চৌধুরী নামে মানব দরদী ডাক্তারকে শ্রীনাথ হাসপাতালেনিয়োগ দেওয়া হয়ে ছিল। গ্রামে তখন বিদ্যুৎ ছিলনা, তাই প্রয়োজন হলে ডাঃ নন্দীমোমবাতীর আলোতে অপারেশন করতেন। সুদীর্ঘ কালব্যাপী ইহা মোটা মোটি সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছেভবনটি। প্রায় শত বছরের হাসপাতাল ভবনটি অযতœ-অবহেলার শিকার হয়ে হারিয়েযাচ্ছে। দেখাগেছে, ঐতিহ্যবাহী শ্রীনাথের ডিসপেনসারী ভবনটির দেয়ালের চারপাশেবট গাছের অসংখ্য শিকড় হাসপাতাল ভবনের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছেয়ে গেছে। ভবনের
চারিদিকে অসংখ্য বট গাছ। শিকর গুলো এতই জড়িয়ে আছে যে, হঠাৎ করে কেউ দেখলেবুঝতে পারবেনা এখানে একটি ভবন রয়েছে। এছারা হাসপাতাল ভবনটির চারিদিকেশ্রীনগর বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারনে স্তুপে জমে রয়েছে। ফলে দুগর্ন্ধ ছরিয়েপরিবেশের মারাত্তক ক্ষতি হচ্ছে। এর পাশেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পল্লি চিকিৎসা কেন্দ্রে।সাধারন রোগীরা দুগন্ধের মধ্যেও নিরুপায় হয়ে সেব নিতে আসেন। অনুসন্ধানে আরওজানা-যায়, খুব বেশী দিনের কথা নয়, মাত্র অল্প কয়েক দিনের মধ্যে কিছু স্থানীয়প্রভাবশালী ব্যক্তি এ হাসপাতাল ভবনের অতি মূল্যবান কাঠের দরজা জনালাসহগুরুত্ব পূর্ন আসবাবপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে। এমনকি কিছু প্রভাবশালীভূমিদস্যু পুরাতন ঐতিহ্যবাহী হাসপাতাল ভবনটির জায়গা গ্রাস করতে উঠে পরেলেগেছে। আজও কালের স্বাক্ষি হয়ে আছে এ হাসপাতালের জারাজির্ন এ ভবনটি।বিক্রমপুরেরে ঐতিহাসিক জমিদার শ্রীনাথের ডিসপেনসারীটি দেখতে অনেকেইদুর-দুরান্ত থেকে প্রায়ই ছুটে আসে। তাই, ভবিষ্যৎ প্রজম্মের ইতিহাস জানার জন্যঐতীহ্যবাহি রাজা শ্রীনাথ চেরিটেবল ডিসপেনসারী এন্ড হাসপাতাল ভবনটি অতীবজরুরী ভিত্তিতে সংক্ষার ও সংরক্ষণ করা একান্ত প্রয়োজন বলে সুধী মহলের দাবী। এব্যপারে উপজেলা নির্বাহি অফিসার জহিদুল ইসলাম জানতে চাইলে তিনি বলেন,অতিশিঘ্রই আমরা শ্রীনগরের পরিত্যাক্ত ঐতিহ্যবাহী রাজা শ্রীনাথ চেরিটেবলডিসপেনসারী এন্ড হাসপাতাল ভবনটির সংস্কারের জন্য ব্যবস্থা করবে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *