Home / বাংলাদেশ / ঢাকা বিভাগ / মুন্সিগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ হচ্ছে মেহেদি

মুন্সিগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ হচ্ছে মেহেদি

মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের খাসকান্দিরচর ও চাঁন্দেরচর এলাকার বির্স্তীণ দিগন্ত মাঠ জুড়ে চাষ হয়েছে মেহেদি। বংশ পরস্পরায় সেখানকার ৫০-৬০টি পরিবার এই মেহেদি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। মেহেদি চাষে তাদের তেমন খরচ নেই। একবার চাষ করে সেই মেহেদি গাছের ডোগা রোপন করে আবার মেহেদি উৎপাদন করে থাকেন। ফলে বাণিজ্যিকভাবে সেখানে এখন মেহেদির চাষ হচ্ছে।
ঈদ, বিয়ে কিংবা অন্য কোনো উৎসবে মেহেদির ব্যবহার হয়ে থাকে বেশি। শুধু হাত আর নখ সাজাতেই নয়, চুল উজ্জ্বল আর ঝলমলে এবং মাথা ঠান্ডা ও খুশকি তাড়াতেও মেহেদি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চুল ও দাঁড়ির রঙ হিসেবে মেহেদি ব্যবহার করছে সৌন্দর্যপ্রিয় মানুষেরা। আবার মেহেদির নানা প্রকার ঔষধি গুণও রয়েছে। দিনদিন ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চাষিরাও বেশ আগ্রহে মেহেদির আবাদ করছেন।
চাষিরা একটি গাছ থেকে তিনটি ডোগা নিয়ে একটি আটি করেন। এই রকম ১শ’টি আটি তারা ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় বিক্রি করে। বছরে তারা একটি গাছ থেকে ৪বার ডোগা বিক্রি করতে পারেন। আবার গাছের সেই ডোগা রোপণ করে পুনরায় মেহেদির চাষ করা হয়। জমি থেকে মেহেদি কেটে নিয়ে চাষিরা ঢাকার কাওরান বাজার ও যাত্রাবাড়ীতে নিয়ে বিক্রি করেন। শীত মৌসুমে মেহেদির পাতার চাহিদা কিছুটা কম থাকে। তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে ফলন ভালো হয় ও চাহিদাও বেশি থাকে বলে জানালেন চাষিরা। মেহেদি চাষ করে তারা বেশ ভালোই আছেন। মেহেদির চাষ করে এর লভ্যাংশ দিয়ে অনেকে বিদেশেও গিয়েছেন।
বালুরচর ইউনিয়নের সাবেক মহিলা মেম্বার সালেহা বেগম জানান, তারা ২৫-৩০ বছর ধরে ওই অঞ্চলে মেহেদি চাষ করে আসছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় তারা সরকারের কোন অনুদান বা সহযোগিতা পাচ্ছেন না। সরকারের সহযোগিতা পেলে সেখানে মেহেদি চাষ আরও বাড়তো বলে জানান তিনি।
মুন্সিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর জানান, মেহেদি একটি লাভজনক ফসল। তাই খাসকান্দিরচর ও চাঁন্দেরচর এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মেহেদির আবাদ হচ্ছে। সেখানে এই বছর ৩০ হেক্টর জমিতে মেহেদির আবাদ হয়েছে। কৃষকেরা মেহেদি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে এবং আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করেছেন।
এমএইচএস/আরইউ
সূত্র:-observerbd

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *